ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৭ অঙ্গরাজ্য ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর প্রশাসনের নতুন কড়াকড়ি আরোপের প্রতিবাদে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ১৭টি রাজ্য ও দুই শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়।

তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সামনের সেমিস্টারের জন্য কয়েক মাস ধরে যে পরিকল্পনা সাজিয়েছে, তা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

গত ৮ জুলাই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে যায় হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)।

বোস্টনের আদালতে করা এ চ্যালেঞ্জকে সোমবার সমর্থন জানিয়েছে দুই শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশটির ১৭ অঙ্গরাজ্য।

মামলায় যোগ দিয়েছে গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটসহ ১৪ টেক কোম্পানি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। খবর আলজাজিরা ও সিএনএনের।

২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর শিক্ষা নিতে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছেন।

৬ জুলাই ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) জানায়, আসন্ন ফল সেমিস্টার থেকে আমেরিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি পুরোপুরি অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করে, তাহলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আমেরিকা ত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া সেখানে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদেরও ভিসা দেয়া হবে না।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী পুরোপুরি অনলাইন পড়াশোনা করছেন, তাদের অবিলম্বে একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে অন্তত কিছুসংখ্যক ক্লাসে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে অথবা দেশে ফিরে যেতে হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ৮ জুলাই ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এমআইটি।

হার্ভার্ড-এমআইটির দায়ের মামলায় বলা হয়, নতুন নির্দেশনায় লাখো শিক্ষার্থীর আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ফেডারেল আদালতে করা এ মামলার আরজিতে বলা হয়, আসন্ন ফল সেমিস্টার শুরু হওয়ার আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি।

এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিভার্সিটি বদল করার সুযোগ নেই। এতে অনেকেই দেশটিতে শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের বৈধ ভিসা হারাবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়া ব্যয়বহুল, অবাস্তব এবং অনিরাপদ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭টি রাজ্য মামলায় জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। শরৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস শুরু হলে এ নিয়মের ফলে তা থমকে যেতে পারে বলেও তারা শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল মাউরা হিয়েলে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের নির্বোধ নিয়মের ভিত্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করার চেষ্টাও করেনি। অথচ, এই নিয়মের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তালিকায় রাখা এবং তাদের ক্যাম্পাসে সুরক্ষা দেয়ার ব্যাপারে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের

নতুন শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মের বিরুদ্ধে মামলায় যোগ দিয়েছে গুগল, ফেসবুক, মাইক্রোসফটসহ ১৪ টেক কোম্পানি।

আইটি সংস্থাগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশের জিডিপিতে যথেষ্ট অবদান রাখেন। আন্তর্জাতিক ছাত্ররা মার্কিন ব্যবসা-বাণিজ্যের কর্মীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ