দেশপ্রেমিক ও সাহসী উদ্যোক্তা ছিলেন

‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাহসী, দেশপ্রেমিক, নির্ভীক, আপসহীন শিল্পোদ্যোক্তা ছিলেন। তিনি নিজেই নিজেকে তৈরি করেছিলেন। একক প্রচেষ্টায় ক্ষুদ্র থেকে মহীরুহে পরিণত হয়েছিলেন। ছিলেন ব্যবসায়ী সমাজের আলোকবর্তিকা। বিনয়ী, স্পষ্টভাষী, সদালাপী হওয়ায় ছিলেন সব শ্রেণির ব্যবসায়ীর কাছে প্রিয়পাত্র। কর্মই তাকে মানুষের মাঝে চিরদিন বাঁচিয়ে রাখবে। তার মৃত্যুতে দেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হল।’

নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে শোকবার্তায় এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপের প্রধান, বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

তার শূন্যস্থান পূরণ হওয়ার নয় -শেখ ফজলে ফাহিম : মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পপতি নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। শোকবার্তায় তিনি বলেন, প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ব্যবসার যাত্রা শুরু করেন, যা পরবর্তী সময়ে বজায় রেখেছেন।

অক্লান্ত পরিশ্রম করে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন তিনি। যেখানে হাজারও মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার মৃত্যুতে যে শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ২০০২ সালে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয়। এরপর বিভিন্ন সময় দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। উনি সব সময় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের চিন্তা করতেন। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

প্রিয়মুখ ছিলেন, থাকবেন -ড. রুবানা হক : শোকবার্তায় বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, শিল্পপতি নুরুল ইসলাম সবার প্রিয়মুখ ছিলেন ও থাকবেন। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তার পরিবারকে শোক সামলানোর শক্তিদান করবেন, সে কামনা করছি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথিকৃৎ ছিলেন -সেলিম ওসমান : বিকেএমইএ-র সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, নিট খাতে নুরুল ইসলামের বিশাল অবদান রয়েছে। তার মৃত্যুতে দেশ অনেক পিছিয়ে গেল। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। নুরুল ইসলাম বেঁচে থাকলে করোনা-পরবর্তী সময়ে নিশ্চয় নতুন আরও উদ্যোগ নিতেন। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। চাকরিহারাদের পুনর্বাসন হতো। তাকে এই অসময়ে বড্ড প্রয়োজন ছিল।

সাহসী উদ্যোক্তার প্রস্থান -মোহাম্মদ আলী খোকন : বিটিএমএ-র সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, শিল্পপতি নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে জাতি একজন সফল ও সাহসী উদ্যোক্তা হারাল। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তার অবদান অনস্বীকার্য। তার শিল্পগোষ্ঠীতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। শুধু টেক্সটাইল সেক্টর নয়, অনেক খাতে তার বিনিয়োগ ছিল। মিডিয়া জগতে জননন্দিত পত্রিকা দৈনিক যুগান্তর ও টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভি এবং দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্ক নির্মাণ তারই প্রমাণ। তিনি সাহসী উদ্যোক্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে টেক্সটাইল খাত ভালো বন্ধু হারিয়েছে।

দেশপ্রেমিক উদ্যোক্তা হারালাম -শামস মাহমুদ : ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ শোকবার্তায় বলেন, একাত্তরের রণাঙ্গনের সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে আমরা দেশপ্রেমিক একজন উদ্যোক্তাকে হারালাম। তিনি সব সময় দেশের কথা চিন্তা করতেন, যা তার বিনিয়োগের দিকে তাকালে বোঝা যায়। দেশের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তিনি বিশাল অবদান রেখেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের সব খাতেই তার পদচারণা ছিল। আবাসন, টেক্সটাইল, মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স সব খাতেই তার বিনিয়োগ পণ্য বহুমুখীকরণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অনেক খাতে বিনিয়োগে তিনিই পাইওনিয়ার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে অনেকে তার পথ অনুসরণ করেন।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শামস মাহমুদ বলেন, নুরুল ইসলাম আমার কাছে অভিভাবকের মতো ছিলেন। নতুন উদ্যোক্তাদের উপদেশ দিতেন। কখনও ভাবতেন, বুদ্ধি-পরামর্শ দিলে তার ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার কাছে উপদেশ-পরামর্শ চেয়ে কখনও নিরাশ হইনি। ভুল করলে রাগ করতেন। কিন্তু পরক্ষণেই আবার পরম মমতায় সবকিছু বুঝিয়ে দিতেন। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা অপূরণীয়।

মানুষের মধ্যে চিরদিন বেঁচে থাকবেন -আহমেদ আকবর সোবহান : বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শোকবার্তায় বলেন, শিল্পপতি নুরুল ইসলাম একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে বহুমুখী শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও হাজারও মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে গেছেন। এ কারণে তিনি কর্মজীবী ও মেহনতি মানুষের মধ্যে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

কোনো কলঙ্ক তাকে ছুঁতে পারেনি -কুতুবউদ্দিন আহমেদ : এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে আমরা দেশবরেণ্য একজন শিল্পপতিকে হারালাম। তার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এ ক্ষতি খুব সহজে পূরণ হবে না। এত বড়মাপের ব্যবসায়ী হয়েও তিনি ঋণখেলাপি ছিলেন না। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে টালবাহানা করার কোনো রেকর্ড তার নেই। কোনো ধরনের কলঙ্ক তাকে ছুঁতে পারেনি। বাংলাদেশের অনেক বড় বড় শিল্পপতির এ ধরনের সমস্যা থাকলেও তার এ সমস্যা ছিল না। আমার দেখা একজন আদর্শবান ও সহজ-সরল ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। এটা সবার জন্যই অনুকরণীয় বলে আমি মনে করি। তিনি নির্লোভ ব্যক্তি ছিলেন। কখনও এমপি, মন্ত্রী হতে চাননি। কোনো উচ্চাভিলাষ ছিল না তার। সব সময় নীতি এবং আদর্শ নিয়ে থাকতেন। তিনি নিজের মতো করেই একটি জগৎ সৃষ্টি করেছিলেন, যা বাংলাদেশের শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য শিক্ষণীয়। তার কোনো বিদেশি পাসপোর্টও ছিল না। তিনি দেশকে ভালোবাসতেন। দেশ নিয়েই চিন্তা করতেন। দেশেই বিনিয়োগ করেছেন।

তিনি নিজেই নিজেকে তৈরি করেছেন -তপন চৌধুরী : স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বলেন, প্রথিতযশা শিল্পপতি নুরুল ইসলাম নিজেই নিজেকে তৈরি করেছেন। এই ধরনের মানুষ আমাদের সমাজে অনেক কম। শিল্প খাতে তার অবদান অনেক। একটি শিল্পগ্রুপ তৈরি করে কর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি করেছেন তার জন্য দেশের মানুষ তাকে স্মরণ করবে। তার মৃত্যু দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ক্ষতি বলে আমি মনে করি।

ব্যবসায়ী সমাজ আলোকবর্তিকা হারাল -লিয়াকত আলী খান মুকুল : রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল বলেন, শিল্পপতি নুরুল ইসলাম ছিলেন ব্যবসায়ী সমাজের আলোকবর্তিকা। কঠোর পরিশ্রম করে কীভাবে ব্যবসা করতে হয়, তা দেখিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হল।

তিনি ছিলেন অনুকরণীয় -এ কে আজাদ : হামীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে নুরুল ইসলাম ছিলেন অনুকরণীয়। নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে তিনি ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতেন। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন। তার মৃত্যুতে শিল্প খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হল।

সাহসী উদ্যোক্তা ছিলেন -আবদুল আউয়াল মিন্টু : এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু শোকবার্তায় বলেন, শিল্পপতি নুরুল ইসলামকে শুধু শিল্পোদ্যোক্তা বলব না, বলব সাহসী শিল্পোদ্যোক্তা। তার মৃত্যুতে শিল্প খাতের অপূরণীয় ক্ষতি হল।

এ ছাড়া শিল্পপতি নুরুল ইসলামের মৃত্যুতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ, রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ওয়ালটন হাইটেক পার্কের চেয়ারম্যান শামসুল আলম, ওয়ালটন গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ নুরজাহান ইসলাম, আলিফ গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, সিকিম গ্রুপ ও প্রিমিয়ার সিমেন্টের চেয়ারম্যান আমিরুল হক, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর, শেলটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ, এনভয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নুরুল নেওয়াজ সেলিম, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান এমপি, আইএফআইএলের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, শাহজীবাজার পাওয়ারের চেয়ারম্যান রেজাকুল হায়দার মঞ্জু, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ এমএম এনামুল হক, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিএম ইউসুফ আলী, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান প্রমুখ শোক প্রকাশ করেছেন।

বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিদের শোক : যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের মৃত্যুতে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলমগীর কবির, অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খান, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম চৌধুরী শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন মেট্রো চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হানিফ এ খান, ইলেক্ট্রোমার্ট লি.-র ডিরেক্টর নুরুস সাফা ও নুরুল আফসার, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এমডি বিএম ইউসুফ আলী, রোটারির সাবেক গভর্নর গোলাম মুস্তফাসহ প্রমুখ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ