ভারতে ‘মানুষখেকো’ চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়েই চলেছে!

ভারতে চিতাবাঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ‘মানুষখেকো’ এই চিতা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

প্রতি বছর দেশটিতে চিতার হামলায় কমপক্ষে ২৪ জন মানুষ প্রাণ হারান। তবে চিতাদের জন্য তার পরিণামও হয় ভয়ঙ্কর।

গত দুই দশকে একশোরও বেশি চিতাবাঘকে ‘মানুষখেকো’ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় প্রত্যেকটিকে গুলি করে মারা হয়েছে।

তবে তাদের সুরক্ষার লক্ষ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ নেয়া হলেও বেড়ে চলেছে ‘মানুষখেকো’ চিতার সংখ্যা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই সময় জানিয়েছে, গতকাল শনিবার ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে বদ্রীনাথ বন বিভাগে গুলি করে ‘মানুষখেকো’ একটি চিতাবাঘ খতম করা হয়েছে।

বদ্রীনাথ ডিভিশনের বিভাগীয় বনকর্তা আশুতোষ সিং জানান, মানুষের রক্তের স্বাদ পেয়ে লোভাতুর হয়ে উঠেছিল চিতাবাঘটি। ৩০ জুন বাঘটিকে ‘মানুষখেকো’ ঘোষণা করা হয়েছিল।

তিনি জানান, ২৮ মে বদ্রীনাথ ডিভিশনের গয়ারবরাম এলাকায় ওই চিতাবাঘটি প্রথমবার মানুষ মেরেছিল। এরপরপ ২৯ জুন চিতাবাঘটি দ্বিতীয় মানুষ শিকার করার পরই মুখ্য বন্যপ্রাণ ওয়ার্ডেনকে চিঠি লিখে চিতাবাঘটিকে ‘মানুষখেকো’ ঘোষণা করা হয়।

অনুমতি মেলার পর গতকাল শনিবার বন দফতরের ভাড়া-করা শুটার বদ্রীনাথ ফরেস্ট ডিভিশনের নারায়ণবাগার রেঞ্জে চিতাবাঘটিকে গুলি করে মারা হয় বলে জানান ওই বন কর্মকর্তা।

এদিকে আলমোরা ফরেস্ট ডিভিশনে আরেকটি চিতাবাঘকে ‘মানুষখেকো’ ঘোষণা করা হয়েছে। ৮ জুলাই ওই ডিভিশনের উদাল এরিয়ায় চিতাবাঘটির হামলায় দু-বছরের একটি শিশু মারা যায়। তার পরের দিন আরও একজন। চিতাবাঘ মারতে উত্তরপ্রদেশ থেকে দুই শিকারি আনা হয়েছে।

শনিবার সকালে আর একটি পৃথক ঘটনায় নৈনিতাল জেলায় চিতাবাঘের হামলায় বছর ষাটেকের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, গবাদিপশুর জন্য ঘাসপাতা আনতে জঙ্গলে গিয়েছিলেন ওই নারী। সেসময় চিতাবাঘটি অতর্কিতে হামলা করে। ২০ দিনের মধ্যে উত্তরাখণ্ডের কাঠগোদাম অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

এর আগে ২৩ জুন জঙ্গলে ঘাস কাটতে গিয়ে আরও এক নারী চিতাবাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান।

নৈনিতাল ফরেস্ট ডিভিশনের মানোরা ফরেস্ট রেঞ্জের রেঞ্জার বিএস মেহতা জানান, শনিবারের ঘটনাটি ঘটে গৌলা ব্যারেজ এলাকায়। মৃত নারীর নাম পুষ্পা সংগুড়ি। আরও চার নারীর সঙ্গে গবাদিপশুর খাদ্য জোগাড় করতে জঙ্গলে গিয়েছিলেন। সেসময় একটি চিতাবাঘ তাকে থাবা মেরে, জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ওই বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়।

ওই চিতাবাঘটিকে ধরতে খাবারের টোপ দিয়ে ঘটনাস্থলে খাঁচা পাতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনদফতর।

তবে ‘মানুষখেকো’ হয়ে উঠার জন্য চিতাবাঘ নাকি মানুষ দায়ী? এই প্রশ্ন এখন ঘুরেফিরে আসছে।

উত্তরাখণ্ডের অভিজ্ঞ বাঘ শিকারি লকপথ সিংয়ের মতে, পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে চিতাবাঘেরও প্রয়োজন রয়েছে। ভারসাম্য বজায় রাখতে তাদেরও ভূমিকা রয়েছে। এমন সুন্দর প্রাণীকে গুলি করে মারা সত্যি দুঃখ হয় আমার।

তিনি বলেন, চিতাদের বাসভূমি, খাদ্যশৃঙ্খল ধ্বংস করে মানুষই এই ট্র্যাজেডি সৃষ্টি করেছে। আমরা জঙ্গলে প্রায় সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছি। তারপর ক্ষুধার তাড়নায় চিতা কোনো শিশুর ওপর হামলা করলে আমরা তাকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেই। এটা মোটেই ন্যায্য নয়। আমরা ভুল করি, অথচ চিতার শাস্তি হয়।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ