রংপুর ক্লিনিকে প্রসূতির মৃত্যু, ৩ লাখ টাকায় মীমাংসা

রংপুরের মিঠাপুকুরে সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা ক্লিনিক ঘেরাও করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে ৩ লাখ টাকায় ঘটনাটি রফাদফা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের আসাদুজ্জামানের ছেলে রাশেদ মণ্ডল। তার স্ত্রী আকলিমা বেগম সাথীর (৩০) প্রসব বেদনা শুরু হলে সোমবার দুপুরে গড়েরমাথায় রয়েল হেল্থ সিটি হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিকভাবে প্রসব হবে না বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানান।

তাদের পরামর্শে সন্ধ্যায় তার সিজারিয়ান অপারেশন শুরু হয়। সিজারিয়ান অপারেশন করে ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়ে মারা যান প্রসূতি আকলিমা বেগম সাথী। এরপর কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে রুম থেকে লাশ বের করে তড়িঘড়ি করে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর শহরের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রসূতির স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সটি আটক করে।

ঘটনার পর ক্লিনিকের লোকজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করে। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৩ লাখ টাকায় মৃত্যুর ঘটনাটি মীমাংসা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত আকমল হোসেনের মেয়ে আকলিমা বেগম সাথীকে ৭ বছর আগে বিয়ে করেন রাশেদ মণ্ডল। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতেই ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করেন তিনি। তাদের ইতিপূর্বে আরও একটি ছেলে সন্তান আছে।

রয়েল হেলথ্ সিটি হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ইবনে সবুজ বলেন, সিজারিয়ান অপারেশন করার ৪০ মিনিট পর প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। পরে স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করলে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

মিঠাপুকুর থানার ওসি জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না দেয়ায় মামলা হয়নি। এ কারণে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ