কোভিড-১৯: স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড গঠন জরুরি

গণমাধ্যম আর সোশ্যাল মিডিয়ার পাতাজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য ছুটে বেড়ানোর তথ্য উঠে আসছে। ভিআইপিদের অনেকেই সিএমএইচ বা বেসরকারি মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ অবস্থায় অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই কোভিড-১৯ আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলেছে।

আতঙ্ক আর অতিরিক্ত রোগীর চাপে এক অস্থির অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ দুর্যোগে আমাদের এক প্রকার যুদ্ধের মতোই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। সাহস, মনোবল, সম্পদ ও লোকবল নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা সম্ভব হলে এ সংকটও আমরা সামাল দিতে পারব।

এ মুহূর্তে দেশে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় জরুরি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে একটি ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড গঠন করা প্রয়োজন।

দেশের পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নজরদারি নিশ্চিতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রাইভেট হেলথ ফ্যাসিলিটি রেজিস্ট্রিতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে বিভাগীয় ও জেলা শহরের রেফারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সরকারি চিকিৎসকদের পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসকদের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস যুক্ত করা, অস্থায়ী ভিত্তিতে নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য জীবন বীমা কর্পোরেশনের অধীন ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ, সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং হাসপাতাল পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা, জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী মেরামত ও স্থাপনের দায়িত্বে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের বর্তমান ক্রয়-বিক্রয়ে নজরদারি রাখতে দুর্নীতি দমনের কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

এ সংকটময় পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থাগুলো আমাদের কোভিড ১৯-এর যুদ্ধকে সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

দুর্যোগে ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড প্রতিষ্ঠা জরুরি

বিগত কয়েক মাসে স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা করা হলেও বাস্তবায়নের গতি খুবই ধীর। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় ৩১ সদস্যের জাতীয় কমিটির গঠন করা হয়েছে। তবে এ ধরনের কমিটির মাধ্যমে দৈনিক কাজের সমন্বয় ও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

মার্চের শুরুর দিকে কোভিড-১৯ সারা দেশে বিস্তারের আশঙ্কার কথা বলা হলেও জীবন রক্ষায় সামগ্রী নিশ্চিতে বর্তমান কমিটির মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এমনকি করোনাযোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মীদের খাবার, আবাসন, যাতায়াত ইত্যাদি বিষয়ে নানা সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা এখনও আছে। এ সংকটে স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও এ প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

কোভিড ১৯ মোকাবেলায় একটি জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে, এ কারিগরি কমিটিও নানা পরামর্শ প্রদান করেছে। এ সব পরামর্শ ও সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জড়িত রয়েছে।

এসব সংস্থার কাজের সমন্বয় ও গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে একটি ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

এই হেলথ কমান্ড স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠন করা যেতে পারে। এ কমান্ডের অস্থায়ী কার্যালয় হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা মনিটরিং সেল।

ন্যাশনাল হেলথ কমান্ডের সদস্যদের সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। এ কমিটির সদস্য সংখ্যা সাত থেকে ৯-এর মধ্যে রাখা উচিত। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের স্ব-উদ্যোগী, আইটি, জনসংযোগ, নেতৃত্ব এবং আইন ও নীতি বিষয়ে দক্ষ এমন চৌকষ কর্মকর্তাদের এ কমান্ডে যুক্ত করা উচিত।

এ কমান্ড যে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা সংস্থার সঙ্গে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজনে সহযোগিতা চাইতে পারবে এবং অনধিক ২৪ ঘণ্টার মাঝে এ কমান্ডের সদস্যদের ওই চাহিদার বিষয়ে উত্তর জানানোর বাধ্যকতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

এ কমান্ড প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন হবে এবং সরাসরি যোগাযোগ রেখে সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে।

এ কমান্ড সরাসরি দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যোগাযোগ ও দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবে। দ্রুত কাজ বাস্তবায়নে এ কমান্ডে সদস্যদের জন্য সরাসরি স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করা যেতে পারে।

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কমিটি এবং কারিগরি কমিটির সঙ্গে এ কমান্ডের মূল পার্থক্য হলো– এ কমান্ড সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ বাস্তবায়নের জন্য কোভিড-১৯ সংকট চলাকালে দায়িত্ব পালন করবে।

বাংলদেশের সেবাব্যবস্থার সমস্যা হচ্ছে– সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর সমস্যা সম্পর্কে জানানোর সুযোগ নেই। যেসব করোনাযোদ্ধারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন, তাদের চাহিদা এবং সমস্যা সমাধানের চিন্তাগুলো ফাইল আর প্রশাসনিক জটিলতায় আলোর মুখ দেখে না।

করোনাসংক্রান্ত যে কোনো উদ্ভূত সমস্যা বা বিচ্যুতি তাৎক্ষণিকভাবে কমান্ডের কাছে জানানোর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। বিদ্যমান সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপসের মাধ্যমে এ কমান্ডের কাছে সরাসরি সমস্যা জানানোর সুযোগ থাকতে হবে।

চিকিৎসক, নার্স বা অন্য স্বাস্থ্যকর্মী সরাসরি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কোনো সমস্যা ও পরামর্শ এ কমান্ডকে জানাতে পারবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের এ ধরনের সমস্যা বা পরামর্শ জানানোর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রশাসনিক শাস্তি বা কৈফিয়ত তলব করা যাবে না।

ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড গঠনের পরবর্তী সময় কোভিড-১৯ মোকাবেলায় দেশব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তুলতে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে পারেন।

বিভাগে একাধিক করোনার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন
জেলাপর্যায়ে অনেক নাগরিক করোনা এবং অন্য রোগের স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা শহর থেকে মানুষ ঢাকায় বা বিভাগীয় শহরে ছুটে আসছে। ফলে একক প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ছে, যাতে মানসম্মত সেবা প্রদান সম্ভব নাও হতে পারে এবং মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে।

এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুসারে প্রতিটি বিভাগের জেলার জন্য একাধিক করোনার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে এলাকাগুলোর চাহিদা নিরূপণ করে, প্রয়োজনীয় উপকরণের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। বিভাগ ও জেলার সব হাসপাতালে দ্রুততার সঙ্গে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম, এইচডিইউ এবং আইসিইউর ব্যবস্থা করা।

যেসব হাসপাতাল সামগ্রী আছে কিন্তু নষ্ট, তা দ্রুততার সঙ্গে মেরামত করতে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা, এইচডিইউ এবং আইসিইউ দ্রুততার সঙ্গে স্থাপনে জন্য স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতা চাওয়া যেতে পারে।

অনেক জেলায় স্থানীয় দাতাদের সহযোগিতায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা এবং আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে। এসব হাসপাতালকে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদানের জন্য সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি পুল তৈরি করা হলে জনগণের অধিকতর সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা বিপণন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাইকোর্ট সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সেবার নির্দেশ প্রদান করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলেছে, এ মুহূর্তে কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সেবা না দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে– রোগীরা হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন।

অনেক বেসরকারি হাসপাতাল সম্পর্কেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে তথ্য নেই। যেসব হাসপাতাল সরকারের নির্দেশনা মানবে না; তাদের কীভাবে বাধ্য করা হবে, তা সুস্পষ্ট নয়। এ ছাড়া একজন সাধারণ নাগরিক কোথায় কার কাছে অভিযোগ করবে, সে বিষয়েও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য কোথাও নেই।

দ্বিতীয়ত এই সময় অনেক প্রতিষ্ঠানই সোশ্যাল মিডিয়ায় পেজ খুলে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নানা সামগ্রীর ব্যবসা করছেন। অনেকেই মানহীন পণ্য বিক্রয় করছেন এবং অত্যধিক দাম হাঁকাছেন।
এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের মান ও দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নিবন্ধনের আওতায় আনা জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের Private Facilities Registration-এর মাধ্যমে সব স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা যায়।

হাসপাতালের ক্ষেত্রে হয়তো কিছু নতুন তথ্য সংযোজন করা প্রয়োজন, যেমন হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার হালনাগাদ তথ্য, লোকবল, উপকরণ ইত্যাদি এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন, ঠিকানা ও উদ্যোক্তার এনআইডি নম্বর।

এ নিবন্ধন সম্পন্ন করা হলে যে কোনো নাগরিক এই ওয়েবসাইট বা অ্যাপস ব্যবহার করে অভিযোগ দিতে পারবেন এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ অন্যান্য সংস্থা প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।

জেলা পুলিশ এবং সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে এ নিবন্ধনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে, পাশাপাশি জনগণকে নিবন্ধন নম্বরবিহীন প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা ও পণ্য ক্রয়ে নিরুৎসাহিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের এই নিবন্ধন ব্যবস্থা রোগীদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের অধিকার রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বার্থসংরক্ষণ

২৮ জুন পর্যন্ত চিকিৎসক এবং চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সংগঠন প্ল্যাটফরমের হিসাবে ১৮৭১ চিকিৎসক কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। ৫ জুলাই পর্যন্ত কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে ৬৯ চিকিৎসককে হারিয়েছি। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যেসব রোগী শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ শতাংশই চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসকদের একটি সংগঠন।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন নার্স, টেকনিশিয়ান ও পরিচ্ছন্নকর্মীও। যেসব চিকিৎসক স্বাস্থসেবাকর্মী কোভিড ইউনিটে (সরকারি-বেসরকারি) সরাসরি কাজ করবে তাদের মূল বেতনের সমপরিমাণ বা ৬০ শতাংশ ঝুঁকিভাতা প্রদান করে নিজ উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন সুরক্ষাসামগ্রী কেনায় সহযোগিতা দেয়া যেতে পারে।

এ সংকটের সময়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে উৎসাহী করবে।

সরকারি চিকিৎসক : কোনো চিকিৎসকই চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারছে না। মানসম্মত ব্যক্তিগত সামগ্রীর সরবরাহে অপর্যাপ্ততা যেমন রয়েছে, তেমনি সব পর্যায়ের হাসপাতালে ট্রিয়াজ কার্যক্রম অনুসরণ করা হচ্ছে না; বিধায় অসংখ্য চিকিৎসক সংক্রমিত হচ্ছেন।

সমস্যা রয়েছে মানসম্মত থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থার। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও আপডেটেড ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে যথাযথ প্রশিক্ষণের অভাবে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

চিকিৎসকদের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়া এবং দায়িত্বশীল মহলের অনুপ্রেরণার অভাবে সর্বস্তরের চিকিৎসকদের মধ্যে হতাশা এবং সিনিয়র চিকিৎসকরা প্রায় বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছেন; বিধায় চিকিৎসকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ সমস্যার স্থায়ী ও পরিকল্পিত সমাধান জরুরি।

চিকিৎসক এবং তাদের সঙ্গে বসবাসরত ফার্স্ট ডিগ্রি রিলেটিভদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা এবং হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত এখনই।

পাশাপাশি স্থানীয়/হাসপাতাল পর্যায়ে মানসম্মত ব্যক্তিগত সামগ্রী ক্রয় এবং বিনামূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করা অতিজরুরি। সব হাসপাতালে ট্রিয়াজ কার্যক্রম অনুসরণ করতে চ্যালেঞ্জগুলো খুঁজে বের করে সমাধান করা গেলে চিকিৎসক স্বল্পতা এবং চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার হার কমবে।

যেহেতু চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন, এ কারণে বিকল্প মানসম্মত থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে (চিকিৎসক অথবা নার্সকে) ইনফেকশন প্রিভেনশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব প্রদান, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং আপডেটেড ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে কার্যকর প্রশিক্ষণ দেয়া গেলে স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে সংক্রমণের হার কমবে এবং সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে।

চিকিৎসকদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ যেমন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের হাসপাতাল পরিদর্শন এবং ঘোষিত প্রণোদনার বাস্তবায়ন করা গেলে চিকিৎসকরা করোনা মোকাবেলায় পূর্ণোদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

বেসরকারি চিকিৎসকদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত করা: একটি বিষয় প্রথমে অনুধাবন করতে হবে যে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিক নয়। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার যে কোনো দায় চিকিৎসকদের ওপরেই আসে।

অভিযোগ আছে– অনেক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকে লোক ছাঁটাই হচ্ছে, বেতন কাটা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কোয়ারেন্টিন অথবা সেলফ আইসোলেশন নিশ্চিত না করে একটানা চিকিৎসা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এতে বেসরকারি চিকিৎসকদের মনোবল নষ্ট করে দিচ্ছে। বর্তমানে বেসরকারি চিকিৎসকদের জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় অন্তর্ভুক্ত যেসব চিকিৎসক করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেবে তাদের পৃথক আর্থিক সহযোগিতা এবং জীবন বীমা কর্পোরেশন থেকে গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

দায়িত্বরত চিকিৎসকদের প্রতিষ্ঠানিকভাবে রোগ প্রতিরোধমূলক খাদ্য প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্যানিটারি ইন্সপেক্টরগণকে মানসম্মত খাদ্য প্রদানের বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে।

নার্স: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একজন ডাক্তারের সঙ্গে তিনজন নার্স ও পাঁচজন টেকনেশিয়ান থাকা উচিত। এই মানদণ্ড অনুসারে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ২৩ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সংখ্যাটি মাত্র ৭.৭ জন।

চিকিৎসকদের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ নার্সের সংকট চিকিৎসাসেবার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। নার্সদের সংকট কাটিয়ে উঠতে এ সময়ের জন্য বিদ্যমান নার্সদের পাশাপাশি স্বল্পকালীন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্থানীয়ভাবে অ্যাডহক ভিত্তিতে নার্সের সহকারী নিয়োগ করা যায়।

অথবা যারা নার্সিংয়ের শেষ বর্ষে পড়াশোনা করছে, তাদের কর্মরত নার্সদের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে, যা তাদের একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

এসব শিক্ষানবিশ নার্সদের এই জরুরি অবস্থায় অস্থায়ী ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে চুক্তিতে নিয়োগ দেয়া, যারা বিদ্যমান নার্সদের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

এসব নার্সেরও জীবন বীমা কর্পোরেশনের মাধ্যমে গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা উচিত। কোভিড ১৯-এর প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নার্সরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই দক্ষ নার্সদের রোটেশন করা প্রয়োজন। দক্ষ নার্সদের রোটেশন করা হলে অনেক সংক্রমণ রোধ করা যাবে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী: সরকার পরিচালিত পাবলিক হাসপাতালগুলো রোগীর অত্যধিক চাপের কারণে সীমিত লোকবল দিয়ে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীদের সাময়িকভাবে পাবলিক হাসপাতালগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকারের পরিচ্ছন্নকর্মী এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নকর্মীদের রোটেশন অনুসারে ডিউটি নিশ্চিত করা সম্ভব। এসব অস্থায়ী পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্যও জীবন বীমা কর্পোরেশনের মাধ্যমে গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করা উচিত।

চিকিৎসা উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ

অক্সিজেন সিলিন্ডার, ওষুধ, মাস্ক, স্যানিটাইজার, গ্লাভস ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অধিক দামে বিক্রয় হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রুপ সোশ্যাল মিডিয়াসহ নানাভাবে জনগণের কাছে মানহীন ও ত্রুটিপূর্ণ উপকরণ বিক্রয় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু কিছু ব্যক্তি মজুদ করে প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট সৃষ্টি করছে। চিকিৎসা উপকরণ বিক্রয়কারী সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পোর্টালে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিবন্ধনবিহীন পণ্য বিক্রয় এবং ক্রয় নিষিদ্ধ করতে পারে। কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনবিহীন বা মানহীন পণ্য বিক্রয় করলে ভোক্তা আইনে অভিযোগ প্রদানের জন্য জনগণকে সচেতন করা যেতে পারে।

জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী স্থাপন

অনেক পাবলিক হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই, এইচডিইউ, আইসিইউ উপকরণ নষ্ট। এসব উপকরণ ঠিক করার জন্য দক্ষ ব্যক্তি বা যথাযথ ব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে চিকিৎসাসামগ্রী জরুরিভাবে স্থাপন এবং ঠিক করার দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে আমদানি বা স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইসিইউ বা অন্যান্য উপকরণ মেরামত করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য পাবলিক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি নিয়ে বিভাগভিত্তিক ‘নিবিড় কারিগরি কমিটি’ গঠন করা যেতে পারে।

অনেক স্থানে জেলা প্রশাসন স্থানীয় দাতাগোষ্ঠীর সহযোগিতায় আইসিইউ এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম স্থাপন করছে। পৌরসভা, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন অফিস, জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে উৎসাহী করা যেতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর এ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করে দিতে পারে। এ অবস্থায় দ্রুত স্থানীয়ভাবে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী স্থাপনে সবার এগিয়ে আসা উচিত।

গবেষকদের জন্য তথ্য উন্মুক্ত করুন

কোভিড-১৯ গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোভিড-১৯ আক্রান্ত এবং মৃত ব্যক্তিদের সংগৃহীত তথ্য গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করা দরকার। গবেষকদের এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে কোভিড ১৯-এর নিয়ন্ত্রণে করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সরকারকে জানানোর ব্যবস্থা করা।

এ ক্ষেত্রে ‘বিএমআরসি’-এর পাশাপাশি গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ‘আইআরবি’ বা ‘এথিকেল কমিটি’-কে মহামারীকাল বিবেচনা করে সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুততম সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেয়া উচিত।

আইনের প্রয়োগ ও সচেতনতা

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ স্বাস্থ্য অধিদফতরকে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করে।

কিন্তু এ আইনের প্রয়োগে স্বাস্থ্য অধিদফতর ক্ষমতা ও দায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য অন্যান্য সংস্থাকে এগিয়ে আসার প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জাতীয় দুর্যোগে এ সংস্থার পরামর্শ এবং সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিটি সংস্থার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।

যদিও তা করা হয়নি। স্বাস্থ্য অধিদফতর এ আইন প্রয়োগের ক্ষমতা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কাছে অর্পণ করছে। কিন্তু আইন প্রয়োগ একটি ব্যাপক বিষয়।

অনেক বিষয়ই এ সংস্থার অধীন নয়, তাই আইনের প্রয়োগের জন্য একটি গাইডলাইন প্রণয়ন জরুরি। অনান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এ সংস্থা কীভাবে আইনের প্রয়োগ করবে তা সুস্পষ্টভাবে গাইডলাইনে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রদান ব্যবস্থা করা জরুরি।

সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের গবেষণায় দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনার স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা করলেও এ আইনের বিষয়ে বিভিন্ন ধারার বিষয়ে সচেতনতা খুব কম পরিলক্ষিত হয়।

এ ছাড়া এ আইনের সংক্রামক রোগের তথ্য গোপন, মিথ্যা তথ্য দেয়া, স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান থাকলেও সচেতনতা ও প্রয়োগ কম হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর করোনার নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের গাইডলাইন করেছে, যা প্রশংসনীয়, যা করোনা মোকাবেলায় দেশব্যাপী সমন্বিত পরিকল্পনা করতে সাহায্য করেছে।

কিন্তু সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের জন্য এ সংস্থার কোনো গাইডলাইন ও পরিকল্পনা দেখা যায়নি। তবে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের মাধ্যমে অনেক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন এবং স্থানীয় সরকার আইনের প্রয়োগ জরুরি।

ন্যাশনাল হেলথ কমান্ডকে এসব আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। করোনার এই সংকটে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারে। যা এ সংকটে দুর্নীতি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

করোনা সংকট দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জের মাঝে ফেলে দিয়েছে। এ অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। এই সময়ে সমন্বিত পরিকল্পনা না হলে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।

সমন্বিতভাবে উপরোক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে ন্যাশনাল হেলথ কমান্ডকে ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে।

এ সংকটকালীন অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সাহায্য করবে। আগামী দিনে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে একটি স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে ন্যাশনাল হেলথ সাভির্স গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় কিনা; তা বিবেচনা করা যেতে পারে। আমরা প্রত্যাশা করি– অচিরেই আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারব।

লেখক: ড. রুমানা হক
অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্বাহী পরিচালক, আর্ক ফাউন্ডেশন।

অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্প পরিচালক, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি

অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম
জনস্বাস্থ্য আইন বিশেষজ্ঞ এবং সেক্রেটারি, সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ)

মোহিব নীরব
ফাউন্ডার, প্ল্যাটফরম (চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ)

এ বিভাগের আরো সংবাদ