ভারতে ৪ দিনের ভয়াবহ সংক্রমণে ৭ লাখ ছাড়াল করোনা রোগী

ভারতে গত এক সপ্তাহে ভয়াবহভাবে বিস্তার ঘটেছে করোনা ভাইরাসের। বিশেষ করে গত চার দিনের বুলেটগতির সংক্রমণে দেশটিতে করোনা রোগীর সংখ্যা সাত লাখ ছাড়িয়েছে।

দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা গত ৩ জুন দুই লাখ পার হয়েছিল। গত ২ জুলাই সেই সংখ্যাটি তিনগুণ হয়ে ৬ লাখে পৌঁছে। তার চার দিন পরেই দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা সাত লাখ ছাড়াল। খবর আনন্দবাজার ও এনডিটিভির।

সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সাত লাখ ১৯ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যায় রাশিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে গেছে ভারত।

দেশটিতে করোনা সংক্রমণ এক লাখ থেকে দু্ই লাখে পৌঁছতে সময় লেগেছিল ১৫ দিন। দুই থেকে তিন লাখে পৌঁছতে ১০ দিন লেগেছে। দিন যত গড়িয়েছে, এক এক লাখের চৌকাঠ পেরোতে তত কম সময় লাগছে।

পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখে পৌঁছতে লেগেছিল পাঁচ দিন। আর ছয় থেকে সাতে পৌঁছতে লাগল চার দিন। করোনাভাইরাস যে গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসকরা।

ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ২৪ হাজার ২৪৮ জন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

ওই সময়ে করোনাভাইরাস প্রাণ কেড়েছে ৪২৫ জনের। ৬০.৮৫ শতাংশ করোনা রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন ভারতে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন মহারাষ্ট্রে (১৫১)। তার পরেই দিল্লি, সেখানে ২৪ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ৬৩।

দিল্লিতে একটি পরিবারের ১১ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলছেন, দিল্লিতে কোভিড-১৯ রোগাক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে।

তবে দিল্লিবাসীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। ৭২ হাজার মানুষ ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দিল্লিতে ২৫ হাজার অ্যাকটিভ রোগীর মধ্যে ১৫ হাজারের চিকিৎসা বাড়িতেই হচ্ছে।’

কেজরিওয়ালের দাবি, দিল্লিতে মৃত্যুর হারও কমে এসেছে। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউর সংখ্যা তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের নিরিখে ভারতে দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ু। এই দক্ষিণী রাজ্যে সফলভাবে প্লাজমা প্রয়োগের কাজ এগোচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আর এক দক্ষিণী রাজ্য কর্নাটকেও করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা জানিয়েছেন, করোনা নিয়েই আগামী দিনে বেঁচে থাকতে হবে।

বেঙ্গালুরুতে করোনা-আক্রান্ত এক নারীকে আট ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। তার স্বামী ও পুত্র কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এ ঘটনার জেরে রাজ্য প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইয়েদুরাপ্পার আশ্বাস, আরও ৪৫০টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। রেকর্ড হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার থেকে সপ্তাহব্যাপী ত্রিস্তরীয় লকডাউন জারি করা হয়েছে কেরালার রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে।

উড়িষ্যায় সুকান্ত কুমার নামে এক বিজেপি বিধায়ক করোনাক্রান্ত হয়েছেন। যার কারণে বিধানসভার স্পিকার বিধানসভার সব কমিটির বৈঠক বাতিল করেছেন।

ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে ধর্ষণে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির করোনা রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানার ৬০ পুলিশ কর্মীকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ