বিনামূল্যে করোনা টেস্টসহ বিভিন্ন দাবিতে সিলেটে অবস্থান কর্মসূচি

রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, পাটকল বন্ধ ন করে আধুনিকায়নকরা, পাট খাতে দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ, ভুলনীতি পরিহার, যতবার খুশি ততবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সংসদে উত্থাপিত বিল প্রত্যাহার, সবার জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত কল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দুর্নীতি-অনিয়ম-লুটপাট বন্ধ, দুর্নীতিবাজদের বিচার এবং করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় খরচে বিনামূল্যে সকল নাগরিকের করোনা টেস্ট ও চিকিৎসা প্রদান, বেসরকারি হাসপাতালমূহকে অধিগ্রহণ করে করোনা চিকিৎসায় কাজে লাগানো, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ, কর্মহীন-রোজগারহীনদের ত্রাণ সহায়তা ও রেশন প্রদানের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলা।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সিলেট নগরের শহীদ মিনারের সম্মুখে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী রাজপথে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

বাম গণতান্ত্রিক জোট সিলেট জেলার সমন্বয়ক ও বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেট জেলার আহ্বায়ক কমরেড উজ্জ্বল রায়ের সভাপতিত্বে এবং বাসদ নেতা প্রণব জ্যোতি পালের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি সিলেট জেলার সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সুমন, বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক আবু জাফর,বাসদ(মার্কসবাদী) নেতা এডভোকেট হুমায়ুন রশীদ সোয়েব,বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সিলেট জেলার আহ্বায়ক মুখলেছুর রহমান,সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট নগর শাখার সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাস,বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সিলেট জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাবিল হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সিলেট মহানগর শাখার আহ্বায়ক সঞ্জয় শর্মা প্রমুখ।

এসময় বক্তারা বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের এই দুর্যোগকালে এমনিতেই যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বিদেশ থেকেও অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়ে দেশে ফিরছে সেই সংকটকালে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন কথিত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে ২৫টি রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করার গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার ফলে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে প্রায় ৫৫/৬০ হাজার শ্রমিক কাজ হারাবে। তাদের পরিবার এবং ৪০ লাখ পাটচাষী ও তাদের পরিবার, পাট ব্যবসায়ী মিলে মোট প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মানুষ চরম বিপাকে পড়বে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর কাঠামোগত সমন্বয়ের পরামর্শ পলিসি অনুসারে একের পর এক বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পাটকলগুলো বন্ধ করতে থাকে শাসকশ্রেণি। পানির দামে এসব কলকারখানা ব্যক্তি মালিকদের হাতে ক্রমান্বয়ে তুলে দিচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার এই রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকলগুলোকে পিপিপি’র আওতায় বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এদিকে অত্যন্ত বিষ্ময়করভাবে সরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার উপর ফি আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মহামারির চিকিৎসা কখনও ব্যক্তিগত উদ্যোগে হয় না। করোনা চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেয়া উচিত এবং একে কেন্দ্র করে যে কোনো রকম মুনাফা করার পদক্ষেপকে প্রতিহত করা দরকার। অথচ আমরা দেখতে পেলাম সরকার প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উচ্চমূল্যে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দিলেন। বেসরকারি হাসপাতালগুলো ৩৫০০ টাকার মতো সরকার ঘোষিত উচ্চমূল্য নিয়েও সন্তুষ্ট থাকতে পারছে না, যে যত পারছে তত নিচ্ছে। সরকার সেটা নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টাই করেনি। উপরন্তু এখন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার উপরে ফি আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন সরকার দেশের ৪৩টি জেলায় আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা করতে পারেনি। সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও ‘নো টেষ্ট,নো করোনা’- এই নীতি গ্রহণ করেছে তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ‘গোটা স্বাস্থ্যখাতে এবারের বাজেটেও সামান্য পরিমাণ বরাদ্দ করা হয়েছে,তার মধ্যে ৬০ ভাগই ব্যয় হবে অবকাঠামো,বেতন ভাতা ইত্যাদি খাতে। ফলে জনস্বাস্থ্যের অবস্থা আজ আরোও সংকটে নিপতিত হচ্ছে। জনগণের কোনোরকম দায়িত্ব না নিয়ে সরকার একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে বছরে জ্বালানীর দাম একাদিক বার বাড়ানোর সুযোগ রেখে আইন চালু করছে সরকার,যা শেষপর্যন্ত জনগণের স্বার্থের বিপক্ষে যায়। এ সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া ২য় আর কোন পথ জনগণের সামনে খোলা নেই। তাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ