প্রথম দুই মাসে শনাক্ত ৫৫৫, কেবল জুন মাসেই ১৯৮৭ জন

সিলেটে দ্রুত গতিতে বেড়ে চলছে করোনার সংক্রমণ। দিন দিন বাড়ছে সংকমণের গতি। সিলেটে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দুই মাসে ৫৫৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিলো। আর মঙ্গলবার শেষ হওয়া জুন মাসের ৩০ দিনেই শনাক্ত হন ১৯৮৭ জন রোগী।

সিলেট জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হন গত ৫ এপ্রিল। ওইদিন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীনের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর এপ্রিল ও মে মাস মিলিয়ে মোট ৫৫৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

আর কেবল জুন মাসেই সিলেটে ১৯৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। মঙ্গলবার জুন মাসের শেষ দিনে সিলেট জেলায় ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এরমধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে  ৬৯ জন ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে সিলেট জেলার ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়।

সাধারণ ছুটি তুলে নিয়ে গত ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস খুলে দেয়া ও গণপরিবহন চালুর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপর থেকেই সিলেটে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে দ্রুত।

বিজ্ঞাপন

সবমিলিয়ে সিলেট জেলায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৪২ জনের। আর বিভাগের চার জেলা মিলিয়ে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৫৬০ জনের। ফলে পুরো বিভাগের মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর অর্ধেকেরই বেশি সিলেট জেলার।

চলতি মাসের শুরু থেকেই সিলেটে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে করোনা শনাক্তের সংখ্যা। পরীক্ষার পরিমান বাড়ায় শনাক্তের সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত।

সিলেটে করোনার সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। রাস্তাঘাটে প্রতিদিনই বাড়ছে ভিড়। যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সামাজিক দুরত্ব মানা হচ্ছে না। ৩১ মে অফিসসহ সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার নির্দেশনার পর প্রথম কিছুদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে কিছু কার্যক্রম চালানো হলেও এসব কার্যক্রম এখন স্থিমিত হয়ে এসেছে। সিলেট জেলাকে জোনে ভাগ করা এবং লকডাউন নিয়েও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে এসময়। ফলে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।

জনগন স্বাস্থ্যবিধি না মানলে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, মানুষ সচেতন না হলেও এই জেলার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ