জকিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে একঘরে, ৩ মাতব্বর গ্রেপ্তার

সিলেটের জকিগঞ্জে যুদ্ধাহত এক মুক্তিযোদ্ধাসহ তার পরিবারকে এক ঘরে করে রেখে তাদের মসজিদে যেতে বাধা ও শিশুদের পড়ালেখায় বিঘ্ন সৃষ্টি করায় এলাকার কতিথ তিন মাতব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের রঘুর চক গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব ও তার পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে গ্রামের কিছু অসাধু লোক ও কতিথ মাতব্বররা।

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রবের মেয়ে রুমানা বেগম সোমবার থানায় অভিযোগ করেন, উপজেলার আকাশমল্লিক (রঘুরচক) গ্রামের কিছু অসাধু লোক অন্যায়ভাবে তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের এক ঘরে করে রেখে নানাভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের মসজিদে ও সব ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং মসজিদে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হচ্ছে। গ্রামের সড়কে রাস্তা দিয়ে হাটা-চলা করতেও দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় তাদের পরিবারকে একঘরে করার কারণে পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়া ও ধর্মীয় শিক্ষায় বিঘ্ন ঘটছে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ সার্কেল) সুদীপ্ত রায় ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মো. আবু নাসেরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে একই গ্রামের, আব্দুর রহিমের ছেলে জামাল উদ্দিন, ফয়জুর রহমানের ছেলে আব্দুল মতিন ও আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে বজলুর হকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেল) সুদীপ্ত রায় জানান, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর এমন নির্যাতন খুব দুঃখজনক। আমরা এ ঘটনায় গ্রামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং স্থানীয় লোকজনদের নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব ও তার পরিবারের সদস্যরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে সেই সু-ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও গণমাধ্যম) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, বিষয়টি সিলেট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন স্যার শুনে তাৎক্ষণিকভাবে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জকিগঞ্জ পুলিশকে নির্দেশ দেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ