ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী থেকে বাদ যাচ্ছে ‘ফেয়ার’

কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেই বর্ণবাদ আর শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ নিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রসহ বাকি বিশ্ব তোলপাড় সেই প্রেক্ষিতে বারবার উঠে আসছে বিভিন্ন কোম্পানির রঙ ফর্সা করার ক্রিমের নাম। বিশেষ করে বেশি সমালোচনায় এসেছে ইউনিলিভারের নাম। কারণ রঙ ফর্সা করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিম ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর উৎপাদন ও বিপণন করে এই কোম্পানি।

এবার এই পণ্যের নাম পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়েছে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ইউনিলিভার। ত্বকের যত্ন শ্রেণির পণ্য ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’ থেকে তারা ‘ফেয়ার’ শব্দটি বাদ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ পণ্যের নতুন নাম অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সার্বজনীন সৌন্দর্যের লক্ষ্যে ব্র্যান্ডকে এগিয়ে নিতে ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’ নামটি থেকে ‘ফেয়ার’ শব্দটি ব্যবহার বন্ধ করবে কোম্পানি। ব্র্যান্ডটির নতুন নাম অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নামটি পরিবর্তন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত দশকে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর বিজ্ঞাপন প্রচারণায় বিবর্তনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। ব্র্যান্ডটির লক্ষ্য সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে এমন একটি সামগ্রিক পন্থা অবলম্বন করা, যেটি অবশ্যই সর্বজনীন ও বৈচিত্র্যময় এবং সবখানে সবার কথা মাথায় রাখে। সব ধরনের গায়ের রঙ নিয়ে কথা বলতে ব্র্যান্ডটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত বছরের শুরু থেকেই ত্বকের রঙ ফর্সা করার সংলাপ ও ট্যাগলাইনে পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে ইউনিলিভার বলছে, ‘ত্বক ফর্সা করার উপকারিতা’ এবং ‘ফর্সাকারী’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘দ্যুতি বা গ্লো’, ‘উজ্জ্বল আভা’, ‘ত্বকের নির্মলতা’ এবং ‘উজ্জ্বলতা’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। সব যোগাযোগ মাধ্যমেই এগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইউনিলিভার বাংলাদেশে ৫৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিতেই ইউনিলিভারের পণ্য কেনা হয় বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ