বার্নলিকে নিয়ে সিটির ছেলেখেলা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তাদের শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা প্রায় শেষ। তবে গোল বা জয়ের ক্ষুধা যে আছে আগের মতোই, তারই দেখা মিলল ম্যানসিটির পারফরম্যান্সে। দাপুটে ফুটবলে বার্নলিকে গোলবন্যায় ভাসাল পেপ গার্দিওলার দল।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে ৫-০ গোলে জিতেছে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন সিটি। ফিল ফোডেনের নৈপুণ্যে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষ দিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন রিয়াদ মাহরেজ। বিরতির পর ডেভিড সিলভা স্কোরশিটে নাম লেখানোর পর দ্বিতীয় গোলের দেখা পান ফোডেন। ৩০ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দুইয়ে আছে সিটি। প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া লিভারপুলের পয়েন্ট ৮৩।

গত পরশু রাতে সিটির ডেরায় পাঁচ গোল হজমের চেয়েও বার্নলি বেশি লজ্জা পেয়েছে ক্লাবের কিছু সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণে। ম্যাচ শুরুর আগে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন দলটির খেলোয়াড়রা। অথচ ম্যাচ শুরু হতেই ‘হোয়াইট লাইভস ম্যাটার বার্নলি’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে স্টেডিয়ামের ওপর দিয়ে উড়ে যায় একটি বিমান। কাণ্ডটা ঘটিয়েছে একদল সমর্থক। তাদের একহাত নিয়ে ম্যাচ শেষে বার্নলি অধিনায়ক বেন মি বলেন, ‘আমরা লজ্জিত, আমরা বিব্রত। এ ধরনের সমর্থকদের ফুটবলের আশপাশে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। আমরা এ ধরনের কোনো ঘটনা সমর্থন করি না।’

এ ঘটনার জেরেই হয়তো পুরো ম্যাচেই ছন্নছাড়া ছিল বার্নলি। ম্যাচের অধিকাংশ সময় বল দখলে রাখার পাশাপাশি আক্রমণে আধিপত্য করা সিটি ২২ মিনিটে এগিয়ে যায়। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ২০ বছর বয়সী তরুণ মিডফিল্ডার ফোডেন। অনাকাক্সিক্ষত বিরতির পর গত বুধবার লিগ ফেরার দিনে আর্সেনালের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও গোলের দেখা পেয়েছিলেন এই ইংলিশ ফুটবলার।

৪৩ মিনিটে দারুণ গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাহরেজ। নিজেদের সীমানা থেকে ফার্নান্দিনহোর বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন আলজেরিয়ান মিডফিল্ডার।

যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে মাহরেজের সফল স্পট-কিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিটি। ডি-বক্সে সের্গিও আগুয়েরো ফাউলের শিকার হলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। আসরে মাহরেজের গোল হল নয়টি। পেনাল্টি পাওয়ার ঘটনায় বড় একটা ধাক্কাও খায় সিটি। পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আসরে এখন পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৬ গোল করা আগুয়েরো। ৫১ মিনিটে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বের্নার্দো সিলভার পাস পেয়ে কাছ থেকে স্কোরলাইন ৪-০ করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার ডেভিড সিলভা। আর ৬৩ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফোডেন। পুরো ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য করা সিটি লক্ষ্যে মোট সাতটি শট নেয়, যার পাঁচটিতেই গোল। অন্যদিকে লক্ষ্যে একটিও শট নিতে পারেনি বার্নলি।

ম্যাচ শেষে ফোডেন জানান নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে তৃপ্তির কথা, ‘আমার মনে হয়, সিটির জার্সি গায়ে এটি আমার সেরা ম্যাচ। এখনও প্রতিনিয়তই শিখছি আমি। তবে এমন পারফরম্যান্স দেখাতে পেরে আমি খুশি। খেলায় ভূমিকা রাখতে পারা সব সময়ই দারুণ। খেলাটা আমি উপভোগ করছি। মূল ব্যাপার হল ফল পাওয়া এবং সময়টা কেমন যাচ্ছে। আমরা এখন ক্ষুরধার।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ