‘হিরো অফ দ্য চাঁদপুর’ ৬১ লাখ টাকা ফেরত দেয়া সেই সজীব

চাঁদপুরে হারানো ৬১ লাখ টাকা পেয়ে তা প্রকৃত মালিককে ফেরত দেয়ার ঘটনায় অটোচালক সজীব এখন হিরো অফ দ্য চাঁদপুর। তাকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়া ও প্রশাসন হতে শুরু করে সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে।

অনেকে তাকে দেখার জন্য গত দুইদিন ধরে চাঁদপুর শহরের পূর্ব শ্রীরামদী তার বাড়িতে ভিড় করে অনেক মানুষ। মঙ্গলবার দিনভর সে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে এবং তাকে দেখতে আসা মানুষজনকে সময় দেয়। তার বাড়িতে আজ ভালো রান্না হয়েছে বলে সে জানায়।

সজীবের বাবা পুরানবাজারে গদিঘরে দিনমজুরের কাজ করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সজীব তৃতীয়।

তার বন্ধু জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী বাদল জানান, মঙ্গলবার সজীবকে বিকাশ এজেন্ট মালিক আলমগীর হোসেন জুয়েল অটোরিকশা পুরস্কার হিসেবে কিনে দেয়ার কথা ছিল। সে জন্য দুপুরে ওই বিকাশ এজেন্ট মালিক তাকে ব্যাংকে ডেকে নেন। সেখানে তার কুশলাদি জানেন। তাকে নগদ বা অটোরিকশা কোনটি নেবে তা ফের জানতে চান। সজীব অটোরিকশা কিনে দিতে ওই বিকাশ এজেন্ট মালিককে অনুরোধ জানান।

চাঁদপুরের এএসপি সদর সার্কেল মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী জানান, বিকাশ এজেন্ট মালিক জুয়েল বুধবার বা বৃহস্পতিবার তা কিনে দিবেন বলে বিকাশ এজেন্ট মালিক জানিয়েছেন।

এ দিকে অটোচালক সজীবের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী বাদল গাজীর প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। চাঁদপুরে বিকাশ এজেন্টের ৬১ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এক পার্শ্ব নায়কের ভূমিকা পালন করেন এই বাদল। তিনি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী।

বাদল জানান, অটোচালক সজীব যদি টাকার ব্যাগ নিয়ে ভুল মানুষের কাছে যেত, তবে ঘটনা অন্যরকম হতে পারত। অটোচালক সজীবের দৃষ্টান্তমূলক উদারতায় মূলত বাদলই পুলিশকে ফোন করে টাকা পাওয়ার বিষয়টি অবগত করেন।

ঘটনার বিষয়ে গাজী বাদল তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, রোববার বিকালে সজীবের আত্মীয় সোহাগ তাকে ফোন করে দেখা করতে বলে। তারপর সোহাগ এবং সজীব জানান, ফেসবুকে প্রচার হওয়া হারানো ৬১ লাখ টাকা আমাদের কাছে আছে। এখন আমি কী করতে পারি আপনি একটা পরামর্শ দেন। তাৎক্ষণিক আমি চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিনকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করি এবং ঠিকানা দেই। তাৎক্ষণিক তিনি তিনটি মাইক্রোবাস নিয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ পুরানবাজার অটোরিকশার গ্যারেজে চলে আসেন। এভাবেই সম্পূর্ণ টাকাগুলো উদ্ধার করেন।

একই কথা জানিয়ে অটোচালক সজীব বলেন, তিনজন যাত্রী মনের ভুলে টাকার ব্যাগটা অটোরিকশার সিটে ফেলে যান। প্রায় আধা ঘণ্টা আমি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এরপরও কেউ না আসায়, কি করব বুঝতে পারছিলাম না। কারণ আমি তো টাকার মালিকের ঠিকানা জানি না। আর সরাসরি থানায় যেতেও ভয় পাচ্ছিলাম। তাই উপায়ান্তর না পেয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসি এবং টাকার ব্যাগটি প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ভগ্নীপতির সঙ্গে আলাপ করি। তিনি বিষয়টি প্রতিবেশী বাদল ভাইকে জানান। এরপর বাদল ভাই চাঁদপুর মডেল থানার ওসিকে জানান।

এ ঘটনাটি স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অটোচালক সজীবকে নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠে। ওইদিন রাতেই চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মাহাবুবুর রহমান এ সততার জন্য তাৎক্ষণিক অটোচালক সজীবকে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেন। সোমবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও সজীবকে খাদ্যসহায়তা এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ মহতী কাজের জন্য চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারী অটোচালক সজীবসহ জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী বাদলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ