করোনায় বিশ্বনাথের প্রবাসীর মৃত্যু

সিলেটের বিশ্বনাথে করোনা শনাক্তের দু’দিনের মাথায় তখলিছ মিয়া (৬৫) নামের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার দশঘর ইউনিয়নের বাউসি গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় পীরের বাজারের ‘তখলিছ মিয়া এন্ড সন্স’র সত্ত্বাধিকারী।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে সিলেটের আখালিয়ার ‘মাউন্ট-এডোরা’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার (২১) জুন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ২ মেয়ে, আত্মীয় স্বজনসহ দেশে-বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বিশ্বনাথে এপর্যন্ত ৭৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হলেও এই প্রথম কোন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এর আগে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া হাসপাতালে প্রান্তী সেনাপতি নামে ২মাস বয়সী চন্দ্র গ্রামের আরও এক শিশু মারা গেছে। মারা যাওয়ার ৫ দিন পর গত রোববার (২১ জুন) ফলাফল আসলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন শিশুটি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

তবে, ওই শিশুর পরিবার সিলেট নগরীর বাঘবাড়ির বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা: আব্দুর রহমান মুসা। তিনি বলেন, বিশ্বনাথে এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০৮ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৪৬ জন। মোট আক্রান্ত ৭৫ জনের মধ্যে এই প্রথম কোন করোনারোগীর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করার সুবাদে গত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে দেশে ফেরেন প্রবাসী তখলিছ মিয়া। পরবর্তীতে করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে তার আর যুক্তরাজ্যে যাওয়া হয়নি। গত বুধবার (১৭ জুন) জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে ‘মাউন্ট-এডোরা’ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২১ জুন তার করোনা শনাক্ত হলে ২৩ জুন ভোরে তিনি মারা যান।

প্রবাসী তখলিছ মিয়ার বড় ছেলে আবুল বশর বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়েই তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। আর জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন তার চাচাতো ভাই মোহন আহমেদ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ