শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে অবাঞ্চিত করলো আওয়ামী লীগ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিছ আলীকে উপজেলায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা। রোববার (২১ জুন) ‘আওয়ামী পরিবার, শ্রীমঙ্গল’-এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচী থেকে ইদ্রিস আলীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

মানববন্ধনকালে ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজ বিরোধী কার্যক্রম এবং প্রধান মন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়। এসময় এম ইদ্রিস আলীকে প্রেসক্লাব থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কারের দাবী করে ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়ে প্রেসক্লাব সভাপতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। ইদ্রিস আলী মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদকেরও দায়িত্বে রয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) দুপুরে শহরের কলেজ সড়কের প্রেসক্লাবের সামনে এ প্রতিবাদ সভা ও অবস্থান কর্মসূচী করা হয়। এসময় প্রেসক্লাব সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় সংগঠনটি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জিল্লুল আনাম চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনাম হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, সালিক আহমেদ, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তহিরুল ইসলাম মিলন, উপজেলা যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তালেব বাদশা, পৌর যুব লীগের সভাপতি আকবর হোসেন শাহীন, সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ চৌধুরী, সহ সভাপতি কামরুল হাসান দুলন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন রাহিদ, সভাপতি মসুদুর রহমান মসুদ, সাধারণ সম্পাদক রাজু দেব রিটন, পৌর ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খসরুল আলম সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সুজাত, সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কান্তি দাস প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তরা বলেন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিছ আলী শ্রীমঙ্গলে রাষ্ট্র বিরোধীদের একত্রিত করে রাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাংবাদিকতাকে ব্যবহার করছেন। তিনি কৌশলে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হয়ে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করে দেশ বিরোধী অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন। এম ইদ্রিছ আলী জামাত শিবিরের সাথে একাত্মতা করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে গাড়িতে পেট্টোল বোমা নিক্ষেপসহ বিভিন্ন দাঙ্গা হাঙ্গামায় জড়িত থাকায় ইতিপূর্বে একাধিক মামালায় আসামী অর্ন্তভুক্ত রয়েছেন। এমনকি প্রকাশ্যে সমবায় সমিতির নামে সুদের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষের সহায় সম্বল হাতিয়ে নিচ্ছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার বিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রকাশ করে তার অনুসারী বিভিন্ন সাংবাদিককে ইমেইলে সরকার বিরোধী সাজানো ও বানোয়াট তথ্য এবং বিএনপির কার্যক্রম প্রকাশের জন্য প্রেরণ করে প্রচার করাতে বাধ্য করছেন। একই সাথে ধর্মীয় অনুভুতির উপর আঘাত আনার বিষয়ে প্রায়ই উস্কানি মুলক সংবাদ প্রকাশ করে শ্রীমঙ্গলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাচ্ছেন। তিনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হয়ে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকদের কোনঠাসা ও বহিষ্কার করে প্রেসক্লাবের দখলে নেয়। ইদ্রিস আলী শহরের এমন কোন খাত নেই যেখান থেকে চাঁদাবাজি করছে না। আর এসব কাজে তিনি শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী বলেন, শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিদের জন্য আজ কালোদিন। সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজদের কখনোই এই প্রেসক্লাব প্রশ্রয় দেবে না। শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের একটি অতীত ঐতিহ্য আছে। সেই অতীত ঐতিহ্য একজন ব্যক্তির জন্য ম্লান হয়ে গেলো। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নিবো।

জানতে চাইলে শ্রামঙ্গল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এম ইদ্রিছ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো অসত্য এবং এগুলো আমার বিরুদ্ধে একটি অপপ্রচার৷ প্রেসক্লাবে আমরা দলমতের উর্ধ্বে উঠে মানুষের জন্য কাজ করি, এখান থেকে সরকারবিরোধী কোন কর্মকান্ড বা অপপ্রচার চালানো হয় না৷

এ বিভাগের আরো সংবাদ