বাণিজ্য বন্ধে ভুগবে বেশি ভারত

লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাতের পর বেইজিংকে শিক্ষা দিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোর দাবি উঠেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে রেস্তোরাঁগুলোতে চীনা খাবার বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন।

এ সংঘর্ষের বিরূপ প্রভাব দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাও। তারা মনে করছেন, এ সংঘাতে ভারতীয় জনতার মধ্যে যে ক্ষোভ জন্মেছে, এর আঁচ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নষ্ট করে দিতে সক্ষম।

যদিও ভারত তা চায় না। কারণ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞায় আদতে চীনের চেয়ে বেশি ভুগবে ভারত। শুক্রবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তার কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি অগত্যা কম নয় : বাণিজ্যের ঘাটতি বা উদ্বৃত্ত কেবল অ্যাকাউন্টিং অনুশীলন। একটি দেশের বিপক্ষে বাণিজ্য ঘাটতি দেশীয় অর্থনীতিকে দুর্বল বা খারাপ করে তোলে না।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ দেখে যে শীর্ষ ২৫ দেশের সাথে ভারতের বাণিজ্য রয়েছে। আর ভারতের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডসের সাথে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।

এর অর্থ এই নয় যে, এ তিন দেশের চেয়ে ভারতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী বা ভালো। একইভাবে, ভারতের সঙ্গে চীনসহ ২২ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

এ তালিকায় রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া প্রমুখ।

ভারতীয় গরিবরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে : দরিদ্র গ্রাহকরা এ জাতীয় বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ তারা সবচেয়ে দাম-সংবেদনশীল। উদাহরণস্বরূপ, যদি চীনা এসি বাদ দিয়ে ব্যয়বহুল জাপানি এসি বা কম দামি ভারতীয় পণ্যে বাজার ভরা হলে ধনী ভারতীয়রাও এ নিষেধাজ্ঞায় বেঁচে থাকতে পারবে।

তারা ব্যয়বহুল বিকল্পটি কিনবে। বেশির ভাগ দরিদ্র বেশি দামে জাপানি বা ইউরোপীয় এসি কিনতে পারবে না। আবার কম দামে দেশীয় পণ্য কিনে তাদের ভুগতে হবে।

ভারতীয় উৎপাদক ও রফতানিকারকরা বেশি ভুগবে : কারও কারও যুক্তি হতে পারে যে, চীনের সাথে বাণিজ্য অনেক ভারতীয় উৎপাদককে কষ্ট দেয়। এটি সত্য।

তবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য অদক্ষ ভারতীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়িকদের বেশি ক্ষতি করে। আর দক্ষ ভারতীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়িকদের সহায়তা করে। ভারত বেশ কয়েকটি ব্যবসা মধ্যবর্তী পণ্য এবং কাঁচামাল আমদানি করে, যা চূড়ান্ত পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

মধ্যবর্তী পণ্য যেমন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক চুল্লি, সার, অপটিক্যাল এবং ফটোগ্রাফিক পরিমাপ সরঞ্জাম আমদানি করে ভারত। চীনা কম্বল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

কম ভুগবে চীন : বহু ভারতীয় মনে করছেন, সীমান্তে আমাদের সেনাদের হত্যা করায় চীনকে আমরা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দিয়ে শাস্তি দেব। কিন্তু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় চীনকে খুব বেশি ভোগাবে না।

কারণ, ভারতের মোট রফতানির ৫ শতাংশ এবং আমদানির ১৪ শতাংশ নেয় চীন। আর চীনের মোট রফতানির মাত্র ৩ শতাংশ আমদানি করে ভারত। ভারত থেকে চীনের আমদানি এক শতাংশের কম। ফলে বাণিজ্য বন্ধ হলে ক্ষতি ভারতেরই বেশি হবে।

নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে ভারত : চীনের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের উচিত পুনর্নবায়ন করা

অন্যথায় বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা ভারতের মতো একটি দেশের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিশ্চয়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যদি রাতারাতি নীতিমালা পরিবর্তন করা যায় বা করারোপ করা হয় বা সরকার নিজেই চুক্তিতে নবায়ন করে তবে কোনো বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করতে পারবেন না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ