সীমান্তে চীনকে শিক্ষা দিয়েছে ভারতীয় সেনারা: মোদি

লাদাখের গালওয়ান উপত্যাকায় চীন-ভারত সংঘর্ষের পর উভয় দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কয়েকদফা সামরিক পর্যায়ে আলোচানাও হয়েছে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দিয়েছিলেন।

শুক্রবার সেই বৈঠকে মোদি বলেন, ‘তারা (চীন) আমাদের সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেনি, কোনো তল্লাশি চৌকিও দখল করেনি। আমাদের ২০ জওয়ান শহীদ হয়েছে। কিন্তু যারা ভারতমাতার দিকে চোখ তুলে দেখেছেন, তাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন।’

দেশটিতে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় মোদির ডাকা এই সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ২০টি দল। বৈঠকে মোদির সঙ্গে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

ভারতের সামরিক শক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এমন সামর্থ্য অর্জন করেছি য়ে কেউ আমাদের এক ইঞ্চি জমির দিকেও চোখ তুলে তাকাতে পারবে না। ভারতের সামরিক বাহিনী একই সময় একাধিক সেক্টরে যেতে সক্ষম।’

লাদাখ সীমান্তে নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন পরিকাঠামোর ফলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর আমাদের টহলদারির ক্ষমতা বেড়েছে। ফলে সতর্কতাও বেড়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় কী কী গতিবিধি হচ্ছে, তা সময়ে নজরে চলে আসে। আগে যে এলাকাগুলোতে বেশি নজর রাখা হত না, এখন সেখানে ভালোভাবে নজরদারি চালাচ্ছেন সেনারা। এখনও পর্যন্ত যাদের কেউ আটকাত না, জিজ্ঞাসা করত না, এখন আমাদের সেনারা আটকাচ্ছেন।’

চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘ভারত শান্তি ও বন্ধুত্ব চায়। কিন্তু সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।’

বৈঠকের শুরুতে নরেন্দ্র মোদিকে একগুচ্ছ প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছিলে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

কংগ্রেস নেত্রী জানতে চান, চীন যে এত বড় সৈন্য সমাবেশ করছে, সরকার কি সে খবর পায়নি? উপগ্রহ চিত্রে কি নজর রাখা হয়নি? এই বৈঠক আগে কেন ডাকা হয়নি, সেই প্রশ্নও করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,‘চীন গণতান্ত্রিক দেশ নয়। তাদের দেশে স্বৈরতন্ত্র চলে। তারা যা খুশি করতে পারে। কিন্তু আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়েই চলতে হবে। ভারত জিতবে, চীন হারবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কথা বলুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভাবুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন। আমরা এই ইস্যুতে সব সময় কেন্দ্রের পাশে রয়েছি।’

প্রসঙ্গত, সোমবার রাতে লাদাখের গালওয়ান উপত্যাকায় ভারত-চীনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। এ ছাড়া ৭৬ জন গুরুতর আহত হন। তবে চীনের পক্ষ থেকে কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে চীনের হাতে আটক ১০ ভারতীয় সেনাকে মুক্তি দিয়েছে বেইজিং। আটক হওয়া ১০ সেনা সদস্যের মধ্যে চার সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন।

তবে, চীনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হাতে কোনো ভারতীয় সেনা সদস্য আটক হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

এ বিভাগের আরো সংবাদ