দাপট হারাচ্ছেন ইমরান, পাকিস্তানে বাড়ছে সেনা আধিপত্য!

প্রায় দু’দশক পর আবারও সেনা অভ্যুত্থানের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে পাকিস্তানে। খাকি উর্দির ক্ষমতা দখলের আলামতও ভেসে উঠছে স্পষ্ট।

গত কয়েক মাসে ইমরান খান সরকারের কাজকর্মে সেনাকর্তাদের নাক গলানো এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সেনা কর্তাদের নিয়োগ ঘিরে এমন আশঙ্কাই জোরদার হচ্ছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এ প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ক্ষমতা যত আলগা হচ্ছে, ততই সেনা কর্তারা সরকারের অভ্যন্তরে ঝেঁকে বসছেন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

তাদের মতে, আর্থিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধিসহ একাধিক ইস্যুতে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। সেই সুযোগে সরকারের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছেন সেনা কর্তারা। অনেক ক্ষেত্রেই সরকারের সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন সেনা কর্তারা।

২০১৮ সালে প্রায় ৪৬ শতাংশ জনমত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ইমরান খান। স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ‘নয়া পাকিস্তান’-এর। তারপর থেকে গত তিন বছরে দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট তো কাটেইনি, উল্টো আরও খারাপ হয়েছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও শাসন ব্যবস্থায় বরাবরই খাকি উর্দির ছায়া। এ কলঙ্ক থেকে বের হতে পারছে না দেশটি।

নির্বাচিত কোনো প্রধানমন্ত্রী সরকারের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেনি। যাকে মনে হয়েছে তাকে বাটে ফেলে ক্ষমতা থেকে সরানোর অশুভ শক্তির নাম পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লষণকারী সংস্থা নিউইয়র্কের ‘বিজিয়ার কনসাল্টিং’-এর প্রেসিডেন্ট আরিফ রফিকের মতে, ইমরানের আধিপত্য যত কমবে, সেনার কর্তৃত্ব ততই বাড়বে। সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্তাদের নিয়োগ যত বাড়বে, ততই তারা ক্ষমতার মসনদে ঝেঁকে বসবে।

তিনি বলেন, ইমরানের উপর চাপ ক্রমেই আরও বাড়বে। কারণ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও লকডাউনের জেরে পাকিস্তানের অর্থনীতি আরও বেশি সঙ্কটের মধ্যে পড়তে চলেছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ