নড়াইলে প্রতিপক্ষের হামলায় চাচা-ভাতিজাসহ নিহত ৩

নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় চাচা-ভাতিজাসহ ৩ জন খুন হয়েছেন। এ সময় হামলায় ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকালে উপজেলার গন্ডব গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- চাচা গন্ডব গ্রামের মৃত মাজেদ মোল্যার ছেলে মোক্তার মোল্যা (৫৮) ভাতিজা একই গ্রামের মোন্তাজ মোল্যার ছেলে আমিনুর রহমান হাবিল মোল্যা (৫০), এবং সাইফার মোল্যার ছেলে রফিকুল মোল্যা (৩৪)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গন্ডব গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মিরাজ মোল্যা ও শরিফুল মোল্যা সমর্থিত লোকজনদের সঙ্গে একই গ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য সুলতান মাহমুদ বিপ্লব ও ছলেমান মেম্বার সমর্থিত লোকজনদের বিরোধ চলে আসছিল।

এর জের ধরে বুধবার সকালে মিরাজ মোল্যা সমর্থিত এএসআই ওসমান গনি (৪০)কে বিপ্লব সমর্থিত লোকজন মাদ্রাসার সামনে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

ওই এলাকায় পুলিশ থাকাকালীন বিপ্লব সমর্থিত লোকজন এবং হেলমেট পরিহিত একদল অজ্ঞাত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী রামদা, ছ্যানদাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে মিরাজ মোল্যা সমর্থিত লোকজনদের উপর হামলা চালায়।

হামলায় ঘটনাস্থলে আমিনুর রহমান হাবিল নিহত হন। গুরুতর আহত মোক্তার মোল্যাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান এবং আহত রফিকুলকে নড়াইল সদর হাসপাতাল থেকে যশোর নেয়ার পথে মারা যান।

এ ছাড়া গুরুতর আহত আরও অন্তত ২০ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ, নড়াইল সদর হাসপাতাল ও লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, বুধবার গন্ডব গ্রামে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বিষয়ে শান্তি বৈঠকের কথা ছিল। এ কারণে সকাল থেকেই ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এর মধ্যে বিপ্লবের লোকজন প্রতিপক্ষ একজনের উপর হামলা করে। পরে এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মিরাজ মোল্যার পক্ষের তিনজন নিহত এবং অনেকেই আহত হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ