পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ ব্রিটেন প্রবাসীদের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনকে নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের শতাধিক প্রবাসী নাগরিক, পেশাদার সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও উন্নয়ন বিরোধী একটি বিশেষ চক্র হীন উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেটের কৃতি সন্তান ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের একটি বক্তব্য অপব্যাখ্যা করে সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়ন বিরোধী একটি বিশেষ চক্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভ্রান্ত করে তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি নিজেও দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন এবং যার ফলে তার হৃদয়ে প্রবাসীদের জন্য অনন্য এক স্থান রয়েছে, তার বিরুদ্ধে এই হীন অপপ্রচার অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এই অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ এবং এই বিশেষ চক্রের মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য প্রিয় প্রবাসী ভাই-বোনসহ দেশবাসী সবাইকে অনুরোধ জানাই।

ড. আব্দুল মোমেন সম্প্রতি তার আলোচিত বক্তব্যে একজন সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির ফলে বৈশ্বিক মন্দা দেখা দিলে ১০-১৫ লক্ষ প্রবাসী যদি বাংলাদেশে ফেরত আসেন তাহলে দেশে অভাব বাড়বে, সামাজিক সমস্যা দেখা দেবে, বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হবে। তিনি এও বলেছিলেন, আমি মনে করি আমাদের প্রবাসীরা অনেক সচেতন। তারা এই সময়ে এভাবে দেশে আসবেন না। প্রকৃতপক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো কোনো ভাবেই প্রবাসীদের অসম্মান করে বা তাদের অবদানকে খাটো করে বক্তব্য দেননি। কিন্তু যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা চক্রান্তে লিপ্ত, মূলত তারাই প্রবাসে বাঙালিদের মধ্যে অনৈক্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এমন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রবাসের শতাধিক বিশিষ্ট নাগরিক মনে করি এই ষড়যন্ত্রকারীরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসীদের হেয় করার জন্য অসত্য, মিথ্যা ও বানোয়াট অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্যসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই গোষ্ঠীর অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ড. আব্দুল মোমেন প্রবাসী-বান্ধব সরকারের একজন প্রবাসী-বান্ধব পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গত দেড় বছরে একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার অবদান অবশ্যই প্রশংসনীয়। সকলেই অবগত আছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি প্রবাসীদের কল্যাণে ও উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছেন-যার সুফল প্রবাসীরা নানাভাবে পেতে শুরু করেছেন। তার বিশেষ উদ্যোগেই প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট লন্ডনসহ সারা বিশ্বে ওঠা-নামার জন্য ১২ হাজার কোটি টাকার বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার সিলেট-ঢাকা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের বিশাল জাতীয় প্রকল্পও বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের কল্যাণে অনেক বিশেষ কার্যক্রম ও পদক্ষেপ নিয়েছেন। আশাকরি ড. আবদুল মোমেন সব অসত্য অপপ্রচার পেছনে ফেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের আধুনিক সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাবেন।

বিবৃতিদাতা প্রবাসীরা হলেন- বিশিষ্ট সাংবাদিক কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী, ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশত বার্ষিকী নাগরিক কমিটি, , যুক্তরাজ্যের এক্সিকিউটিভ কনভেনর সুলতান মাহমুদ শরীফ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশত বার্ষিকী নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, ইকবাল আহমেদ ওবিই, ডিবিএ শিল্পপতি, চেয়ারম্যান সী মার্ক গ্রুপ, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এনআরবি ব্যাংক, তোজাম্মেল হক এমবিই (টনি মিয়া), আমীন আলী-স্বত্বাধিকারী, দ্য রেডফোর্ড, বশির আহমেদ- প্রেসিডেন্ট ব্রিটিশ বাংলাদেশী চেম্বার অব কমার্স, শাহগীর বখত ফারুক-চিফ এডভাইজর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্রিটিশ বাংলাদেশী চেম্বার অব কমার্স, মুকিম আহমেদ- পেট্রন কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ, ইয়াওর খান- চেয়ারম্যান, এশিয়ান ক্যাটারিং ফেডারেশন, এশিয়ান কারি এওয়ার্ডস; সেলিম চৌধুরী- প্রেসিডেন্ট ব্রিটিশ বাংলাদেশী ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন, মাহমুদ হাসান- এমবিই সিইও আপাসান্থ, লন্ডন ড. আবদুল হান্নান- (লন্ডন), মুরাদ কোরেশী- এসেম্বলি মেম্বার, লন্ডন সিটি সাবেক কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা খলিল কাজী ওবিই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, ড. তুষার কান্তি দাশ- ( প্রফেসর ইউনিভার্সিটি অব অস্ট্রেলিয়া), ড. এম দেলোয়ার হোসেন আলী- (এসোসিয়েট প্রফেসর, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আলাবামা, ইউএসএ), এম জসীম আলী চৌধুরী- (পিএইচডি/রিসার্চার ,এসোসিয়েট প্রফেসর, কিংস কলেজ লন্ডন), এ কে এম বদরুল আলম- (পিএইচডি/রিসার্চার, সাউথ ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি চায়না), ড. কবিরাজ সানপায়ানা- লেকচারার লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি)।

ডা. ইমরুল কায়েস (লন্ডন), ডা. মোখলেসুর রহমান, ডা. বিশ্বজিত রায় (ক্লিনিক্যাল ফেলো-ইমার্জেন্সি মেডিসিন, কুইন এলিজাবেথ হাসপাতাল লন্ডন), ডা. নূরুল কবির, জিপি; ডা. সুপ্রিয় রায়, সাইকিয়াট্রিস্ট, লন্ডন; ডা. কালিপদ মজুমদার, মিডওয়ে মেরিটাইম হাসপাতাল লন্ডন, ডা. রাজীব হোসেন লতিফ, জিপি, হাল; ডা. গোলাম রাহাত খান, স্পেশালিষ্ট মেডিসিন, এনএইচএস ইংল্যান্ড।

কাউন্সিলর আবদুল মুকিত (চুনু) এমবিই, টাওয়ারহ্যামলেটস; কাউন্সিলর শেরওয়ান চৌধুরী, ক্রয়ডন; কাউন্সিলর আবদুল আজিজ তকী, ওয়েস্টমিনিস্টার; কাউন্সিলর বাদশা কাদির, ক্রয়ডন; কাউন্সিলর জসীম উদ্দিন, নিউহ্যাম; কাউন্সিলর সাদাক খান, বার্মিংহাম; কাউন্সিলর মঈন কাদরী, বার্কিং; কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন মিয়া, বার্কিং; কাউন্সিলর সালেহ আহমেদ, সোয়ানসি; কাউন্সিলর শামসুল ইসলাম সেলিম, উইনজার; কাউন্সিলর সলিসিটর মায়া আলী, কভেন্ট্রি; কাউন্সিলর নাজমা রহমান, কেমডেন; কাউন্সিলর পাপিয়া কোরেশী, ওয়েস্ট মিনিস্টার।

মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মিফতাহুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা লিমন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল ইসলাম মাহতাব, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) ফারুক আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা হাবিব হাওলাদর, মুক্তিযোদ্ধা এম আব্দুল হাদি, মুক্তিযোদ্ধা বদর উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা ফতাব উদ্দিন নাসির।

আবু মুসা হাসান, (সিনিয়র সাংবাদিক); আনসার আহমেদ উল্লাহ, (ডেইলি স্টার ও লন্ডন টাইমস); আনাস পাশা, ( সমকাল, সত্যবাণী); মতিয়ার চৌধুরী, (ইউএনবি); সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, ( চ্যানেল এইট, লন্ডন টাইমস);বাবুল হোসেন; নিলুফার হাসান, (সত্যবাণী); জুয়েল রাজ, (কালের কন্ঠ); জুবায়ের আহমেদ, (ডিবিসি টেলিভিশন)।

ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার আলমগীর হোসেন, ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম মঞ্জু, ব্যারিস্টার এনামুল হক, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার সঞ্জয় কুমার রায়, ব্যারিস্টার বাহার এম তৌহিদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার চৌধুরী হাফিজুর রহমান, ব্যারিস্টার সিদ্দিকুর রহমান রাসেল, ব্যারিস্টার মিজানুর রহমান, ব্যারিস্টার ইমরান কবির চৌধুরী, ব্যারিস্টার ইকবাল মোর্শেদ, ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান তালুকদার, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শাফি, ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ দোলা মিয়া, ব্যারিস্টার নিজামুল হক, ব্যারিস্টার চৌধুরী জিন্নাত আলী, সলিসিটর মায়া আলী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ গনি উল্লাহ, সলিসিটর এম কামরুল হাসান, সলিসিটর মাহফুজুর রহমান, সলিসিটর জাগির আলমসহ দুইশতাধিক প্রবাসী নেতৃবৃন্দ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ