‘লাইফ সাপোর্টে’ মোহাম্মদ নাসিম

নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছেন বলে তার একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম গত আট দিন ধরে ঢাকার শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে তার ‘ব্রেইন স্ট্রোক’ হওয়ার পর সেখানেই মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা নাসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে গেলে ১৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

ওই বোর্ডের সদস্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, “উনার অবস্থার কোনো উন্নতি নেই। আগের অবস্থাতেই আছেন। ক্রিটিক্যাল অবস্থায় যাওয়ার পর থেকেই লাইফ সাপোর্টে আছেন।”

বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ নাসিম গত ১ জুন এই হাসপাতালে আসার আগেও একবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করালে ফল ‘নেগেটিভ’ আসে। ওই সময় তার স্ত্রী এবং একজন গৃহকর্মীর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে।

পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এলেও জ্বর-কাশিসহ অন্যান্য অসুস্থতা বাড়তে থাকায় ১ জুন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন নাসিম। সেখানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাতে ওই পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসে। এরপর তিন দিন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শুক্রবার সকালে তার ‘স্ট্রোক’ হয় বলে নাসিমের ছেলে তানভীর শাকিল জয় জানান।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন শহীদ এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিম পঞ্চমবারের মতো সংসদে সিরাজগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান নাসিম। পরের বছর মার্চে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাকে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নাসিম এক সঙ্গে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। পরে মন্ত্রিসভায় রদবদলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরলেও সেবার মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি নাসিমের। তবে পরের মেয়াদে ২০১৪ সালে তাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা।

এখন মন্ত্রিসভায় না থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাসিম।

এ বিভাগের আরো সংবাদ