আজ থেকে করোনা চিকিৎসা শুরু করছে সিলেটের আরেকটি হাসপাতাল

আজ (সোমবার) থেকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা শুরু করছে সিলেটের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল। সোমবার সকাল থেকে নগরীর আখালিয়ায়  অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা শুরু হবে। প্রথম ধাপে হাসপাতালটি ৪০টি বেড নিয়ে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদেরকে চিকিৎসা প্রদান করবে।  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের ব্যবস্থাপনায়ই করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু করেছে।

এরআগে সিলেটের আরেক বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু করে। আর সরকারি উদ্যোগে নগরীর শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার ঘোষণা করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সিলেটের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে অনেক রোগীর চিকিৎসা না পাওয়া ও বিনা চিকিৎসায় অনেকের মারা যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনার মধ্যে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা শুরু করতে যাচ্ছে মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল।

হাসপাতালটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে জানান, কোভিড-১৯ এর রোগীদের চিকিৎসা চ্যালেঞ্জ হলেও সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত আমরা। এ জন্য রয়েছে এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল ও প্রয়োজন মাফিক স্বাস্থ্যকর্মী। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০টি আইসিইউ ও ৪টি ভ্যানটিলেশন ব্যবস্থা। এছাড়া হাসপাতালটিতে রয়েছে একটি প্লাজমা অ্যাফেরেসিস মেশিন। যা করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বেসরকারি হাসপাতালটির এ কর্মকর্তা বলেন, করোনা উপসর্গ থাকা ও আক্রান্ত হওয়া দুই ধরণের রোগীকেই এখানে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদেরকে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা করোনা সাসপেক্ট রোগীদের চিকিৎসার কথা মাথায় রেখে হাসপাতালে তিনটি জোনে ভাগ করেছি। যার মধ্যে একটি কেবিন জোন, অপরটি আইসিইউ জোন ও অন্যটি ভ্যানটিলেটর জোন। এছাড়া হাসপাতালে আরটি-পিসিআর টেস্ট ছাড়া সকল টেস্টের সুযোগ সুবিধা রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের সক্ষমতা আর প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট থাকার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ হাসপাতালে সকল ব্যবস্থাই রয়েছে। যতই ঝুঁকি থাকুক না কেন আমরা সেগুলো মাথায় নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করে এগিয়ে রেখেছি। ইতোমধ্যে আমরা ৩০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ৬০ জন সেবিকা (নার্স) -সহ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়েছি। যারা মাসে তিনবার পালাক্রমে নিজেদের দায়িত্ব পালক করবেন। ৩০ জন চিকিৎসকের মধ্যে প্রথম ১০দিন একদল চিকিৎসক ও নার্স তাদের দায়িত্ব পালন শেষে ১০ দিনের জন্য বিশ্রামে যাবেন। পরবর্তী ১০ দিন অন্য একদল চিকিৎসক ও নার্স এবং মাসের শেষ ১০ দিন আরও একদল চিকিৎসক ও নার্স তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক আরও বলেন, এখানে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার পাশাপাশি আমরা সাধারণ রোগীদেরকও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাবো। এজন্য হাসপাতালটিতে অবকাঠামোগত অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তার মধ্যে পুরো হাসপাতালের সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। করোনা সাসপেক্ট রোগীদের জন্য সতন্ত্র লিফটের ব্যবস্থা ও সাধারণ রোগীদের জন্য আলাদা লিফটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে এ হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা করোনা আক্রান্ত রোগীদের কাছ থেকে সংক্রমিত না হন।

মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম আরও জানান, আমরা নিজ ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরু করতে যাচ্ছি, যা আমাদের শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিলো। সে জন্য আমরা আলাদা করে চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ দিয়েছি। কারণ আমরা বেসরকারিভাবে ও বেসরকারি উদ্যোগে চিকিৎসাসেবা দিবো।

এ বিভাগের আরো সংবাদ