কুয়েতে সাংসদকে আটকের খবর সত্য নয়, দাবি স্ত্রীর

কুয়েতে মানব পাচার ও মুদ্রা পাচারে অভিযুক্ত লক্ষ্মীপুরের সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলকে শনিবার রাতে দেশটির সিআইডির কর্মকর্তারা আটক করেছে বলে যে খবর বেরিয়েছে সেটা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন তার স্ত্রী।

কাজী শহিদের স্ত্রী ও জাতীয় সংসদের ৩৪৯ নম্বর সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সেলিনা ইসলাম দাবি করেছেন, তার স্বামীকে কুয়েতে আটকের খবরটি সঠিক নয়।

রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েতে গ্রেপ্তার– সম্পর্কিত যে তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে, তা ঠিক নয়। তিনি সেখানে কোনো মামলার আসামি নন। কুয়েত সরকার তাদের নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যবসায়িক বিষয়ে আলোচনার জন্য তাকে সেখানকার সরকারি দপ্তর বা সিআইডিতে ডেকে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দূতাবাসের পরিষ্কার কোনো তথ্য ছাড়া কাউকে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।’

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র ওই সাংসদের আটকের বিষয়ে কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এম আবুল কালাম রোববার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘কুয়েত সিআইডির (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) কর্মকর্তারা শনিবার রাত আটটার পর কাজী শহিদকে তার বাসা থেকে নিয়ে গেছেন বলে জানতে পেরেছি। তবে কুয়েতের কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে এখানকার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা কেন সাংসদকে আটক করেছেন, সেটা জানার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে সিআইডিতে দূতাবাসের লোকজনকে পাঠানো হয়েছে।’

কূটনীতিক সূত্রে, রোববার দুপুরে কুয়েতে বাংলাদেশের ওই সাংসদকে আটকের খবর পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়েতের আরবি দৈনিক আল কাবাস ও আরব টাইমস বাংলাদেশের এক সাংসদসহ তিন মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

কুয়েতের সিআইডির বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছিল, স্বতন্ত্র এই সাংসদসহ তিনজনের ওই চক্র অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাঠিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছে। কুয়েতের গণমাধ্যমগুলো অভিযুক্ত সাংসদের নাম প্রচার করেনি। তবে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অভিযুক্ত সাংসদের নাম কাজী শহিদ ইসলাম। তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাংসদ।

কুয়েতের গণমাধ্যমের খবরের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সাংসদ তখন বলেছিলেন, ‘সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কারণে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি এ ধরনের কোনো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নই। আমি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছি।’

কাজী শহিদ ইসলামের ফেসবুক ও ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজ, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটি জনশক্তি রপ্তানিতে যুক্ত। স্বতন্ত্র এই সাংসদ আওয়ামী লীগ কুয়েতের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, বাংলাদেশ কমিউনিটি কুয়েতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ