মানব পাচারের অভিযোগে এমপি শহীদ কুয়েতে গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুল মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আনা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুয়েতের মাশরিফ আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ব্যাপারে রোববার কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলে দূতাবাসের শ্রম শাখার একটি সূত্র জানায়, তারা এমন খবর শুনেছেন। তবে কুয়েত কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর কুয়েতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মানব পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন দেশের শতাধিক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। শহীদ ইসলামের নামও ওই তালিকায় ছিল। কুয়েতে তার বড় আকারের ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে বলে জানা যায়।

এমপি শহীদ আলম গত মার্চ থেকেই কুয়েতে অবস্থান করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পর্কিত খবর বের হয়। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অবৈধ ভিসা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশী এক সংসদ সদস্যকে খুঁজছে কুয়েতের নিরাপত্তা সংস্থা।

খবরে আরো বলা হয়, অভিবাসী শ্রমিক আনার সরকারি ঠিকাদারি পেতে তিনি সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দিয়েছেন।

স্থানীয় পত্রিকা আল কাবাস কুয়েতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে এক বাংলাদেশীকে মানবপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় জানাননি তিনি। শুধু তিনি বলেন, তিন জনের একটি গ্যাং এ কাজ করে। বাকি দুজন দেশ থেকে পালিয়েছে। এরা তিনজনই তিনটি বড় কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তারা বাংলাদেশ থেকে ২০ হাজারেও বেশি শ্রমিক কুয়েতে পাচার করেছেন। বিনিময়ে সব মিলিয়ে ৫ কোটি দিনারেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আটক ওই বাংলাদেশীই জিজ্ঞাসাবাদে লক্ষ্মীপুরের এমপির নাম বলেছেন বলে জানায় পত্রিকাটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মারাফি কুয়েত গ্রুপের একজন অংশীদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিই্ও) শহীদ ইসলাম। এ প্রতিষ্ঠানটির কুয়েত ছাড়াও ওমান ও জর্ডানে কার্যক্রম রয়েছে।

শহীদ ইসলাম প্রথম কুয়েত যান ১৯৯২ সালে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ভেক্টর মার্কেটিংয়ে যোগ দেয়ার পরই সেখানে যান তিনি। এরপর তিনি মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানিতে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দেন, পরে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হন। এ কোম্পানির ভারী যন্ত্রপাতি, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রকৌশল থেকে শুরু করে মানবসম্পদ সহায়তা সেবাসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ