সিলেটের রাজনীতিতে করোনার ছোবল

সিলেটে দ্রুত বেড়ে চলছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করা এই ভাইরাস সিলেটেও মহামারি আকার ধারণ করছে। সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪৭৯ জনের।

বিভিন্ন সেক্টরের মতো সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছোবল বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা। সিলেটের অন্তত ১০ জন রাজনৈতিক নেতা নেত্রীর এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে। প্রতিদিনই আসছে নতুন নতুন রাজনৈতিক নেতার আক্রান্তের খবর। লকডাউনের সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও অনেকেই বিপাকে পড়া মানুষজনকে সহায়তা করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তবে আক্রান্তদের কয়েকজন ইতোমধ্যে সুস্থও হয়ে ওঠেছেন।

সিলেটে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় গত ৫ এপ্রিল। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগি অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন করোনা আক্রান্ত হন। আর সিলেটের রাজনীতিবিদ হিসেবে গত ২১ মে প্রথম করোনা শনাক্ত হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেলের। এরপর গত ২৪ সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ করোনায় আক্রান্ত হন।

এদের পর সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, তার স্ত্রী ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী আসমা কামরান, বর্তমান মেয়র ও বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরী, মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি শাহরিয়ার কবীর সেলিম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাইফুল আলম রুহেল, সিলেট মহানগরীর ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কামাল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এদের মধ্যে শফিউল আলম নাদেল ও আজাদুর রহমান আজাদ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন। নাদেল বাসায় আইসোলেশনে থেকে ও আজাদ সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

আক্রান্ত অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রায় সকলেই বাসায় আইসোলেশনে আছেন। কেবল সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। গত শুক্রবার কামরানের করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে শনিবার তাকে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র।

কামরানকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলেও বাসায়ই আছেন তার স্ত্রী সিলেট মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসমা কামরান। গত ২৭ মে আসমা কামরানের করোনা শনাক্ত হয়।

বাসায় আইসোলেশনে আছেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামা হক চৌধুরীও। গত ২ জুন ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা শনাক্ত হয়।

হাসপাতাল থেকে করোনা জয় করে বাসায় ফেরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, করোনা আক্রান্ত হলে মনোবল ধরে রাখতে হবে। আমি কখনো মনোবল হারাইনি। আমাদের যেহেতু জনগণের সাথে সবসময় মিশতে হয় তাই সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিও আমাদের বেশি থাকে। তবে এজন্য ভয় পেলে চলবে না। সাহস নিয়ে করোনাকে জয় করতে হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ