নগরীতে একটি হাসপাতালেই সংগ্রহ হয় নমুনা, রোগীদের চরম দুর্ভোগ

সিলেটে বাড়ছে করোনাভাইস আক্রান্তের সংখ্যা। তারচেয়েও বাড়ছে এই ভাইরাসের উপসর্গ বহনকারীদের সংখ্যা। তাই অনেকেই করোনাভাইরাসের জন্য নমুনা পরীক্ষা করাতে চান। কিন্তু এখন পর্যন্ত সিলেট নগরীতে কেবল শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেই করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিদিন এই হাসপাতালে প্রায় ৫০জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে নমুনা দিতে প্রতিদিন ভিড় করেন দেড়শতাধিক মানুষ।

এতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে হয় অনেক রোগীকে। অনেকে একাধিক দিন এসেও নমুনা জমা দিতে পারেন না। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।

এদিকে, রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদেরও। প্রচুর সংখ্যক রোগী ভিড় করায় লঙ্ঘিত হচ্ছে সামাজিক দুরত্বও।

সিলেটে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর থেকেই শামসুদ্দিন হাসপাতালে নমুনা জমা দিতে ভিড় বাড়তে শুরু করে। দিন দিন এর মাত্রা বেড়েই চলছে।

সংক্রমণ বাড়লেও এখন পর্যন্ত সিলেট নগরী ও সদর উপজেলার বাসিন্দাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা প্রদান করতে শামসুদ্দিন হাসপাতালেরই দ্বারস্থ হতে হয়। এই একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান ছাড়া আর কোথাও এই দুই এলাকার বাসিন্দাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় না। তাও শামসুদ্দিন হাসপাতালের একটিমাত্র বুথে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এখানে নমুনা দিতে আসা রোগীদের।

বুধবার শামসুদ্দিন হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা সদর উপজেলার খাদিমের এক রোগী বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভূগছি। তাই আজকে (বুধবার) এখানে নমুনা দিতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। বেলা ৩টা পর্যন্ত বসে থেকেও নমুনা দিতে পারিনি।

শামসুদ্দিন হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে সবকিছু মিলিয়ে সিলেট শহীদ আহমদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে প্রতিদিন ৫০ জনের নমুনা সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। তবে প্রতিদিন তিন থেকে চারগুণ রোগী এখানে ভিড় করছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মহাপাত্র বলেন, প্রতিদিন শতশত লোক এখানে নমুনা দিতে আসছেন। সবার নমুনা সংগ্রহের মতো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আমাদের নেই। ফলে আমরাও হিমসিম খাচ্ছি। রোগীরাও দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শামসুদ্দিন হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের জন্য আরও একটি বুথ চালুর পক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

কিভাবে সংগ্রহ করা হয় নমুনা:

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরকে বলেন, আমরা প্রথমত প্রাধান্য দিয়ে থাকি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগীর পরিবারের সদস্য ও সন্দেহভাজন রোগীর ক্ষেত্রে। এছাড়া এই রোগীর সংস্পর্শে কারা কারা এসেছেন তাদের শনাক্ত করে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে থাকি এবং করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন এমন রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে থাকি।

এ চিকিৎসক বলেন, নমুনা প্রধানত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাই (ল্যাবরেটরি) সংগ্রহ করে থাকেন। তবে জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যারা স্বাস্থ্যসেবায় সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী (ইপিআই) মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন তাদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে সদর উপজেলা আর নগরীর নমুনা সংগ্রহ করা হয় শামসুদ্দিন হাসপাতালে।  উপজেলা পর্যায়ে মেডিকেল অফিসাররা হাসপাতালের পাশাপাশি আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করেন।

কি কি নমুনা সংগ্রহ করা হয়:

ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সোয়াব টেস্ট  ও নাজাল টেস্টের মাধ্যমে মূলত দেশে এ পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। সোয়াব টেস্ট পরীক্ষায় একটি তুলার বল আক্রান্ত রোগীর গলা ও নাকের মধ্যে রেখে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নাজাল টেস্ট পরীক্ষার জন্য একটি স্যালাইনের মাধ্যমে একটি রাসায়নিক নাকের ভেতরে প্রবেশ করায়, তারপর ইনজেকশনের মাধ্যমে নাকের মধ্য থেকে সেটি বের করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া একটি সরু টিউবের মতো নল যার নাম ব্রঞ্চোস্কোপ ফুসফুসের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে শ্বাসনালী থেকে নমুনা সংগ্রহ করে এবং রক্ত পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের প্রকার সম্পর্কে জানা যায়।

দেশে এখনো উন্মুক্তভাবে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার নমুনা প্রদানের সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু চিকিৎসকরা সন্দেহ করলে বা হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হলেই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রয়োজনবোধে করা হচ্ছে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ পরীক্ষার নমুনা। এজন্য রোগীর চাপ ও জনবল সঙ্কটকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে খুব তাড়াতাড়িই সিলেটে এমন সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেট ও তার আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে ভর্তি রোগীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এমন সন্দেহ হলেই তার নমুনা হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা হয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ