হাইকোর্টে জামিন পাননি সেই ডিআইজি প্রিজন

রাজধানীর নর্থ রোডের (ভূতেরগলি) ফ্ল্যাট থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধারের দুর্নীতির মামলায় সিলেটের সাময়িক বরখাস্ত কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে জামিন দেননি হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

পরে খুরশীদ আল খান জানান, ভার্চুয়াল আদালত পার্থ গোপাল বণিককে জামিন না দিয়ে নিয়মিত আদালতে যেতে বলেছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তার জামিন নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

গত বছরের ২৮ জুলাই বিকালে রাজধানীর ধানমণ্ডির ভূতেরগলিতে পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করে দুদক। এর আগে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুদকের সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইউছুফের নেতৃত্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পার্থ গোপাল বণিককে।

ওইদিন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, ঘুষ ও দুর্নীতির কয়েক লাখ নগদ টাকা পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয় এবং তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয়। পরে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতৃত্বে থাকা মো. সালাউদ্দিন বাদী হয়ে পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সিলেটে দায়িত্ব পালনের আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে দায়িত্ব পালন করেন পার্থ গোপাল বণিক। চট্টগ্রাম কারাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাকে এবং চট্টগ্রামের সাবেক সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

তারপরই অভিযানে যায় কমিশন। পরে ৩০ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেফতারের দিন থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ