কেয়ারেন্টিনে সিসিক মেয়র ও সিইও, বাসা থেকেই করছেন অফিস

করোনার কারণে দেওয়া সাধারণ ছুটি শেষে স্বাভাবিক হচ্ছে সব। খুলেছে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস। সিলেট সিটি করপোরেশনেও (সিসিক) দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে (৩১ মে) মে থেকে। তবে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হলেও হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী।

সিসিকের করোনা আক্রান্ত কর্মীদের সংস্পর্শে আসার জন্য তারা হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন প্রতিষ্ঠানটির এই দুই শীর্ষ ব্যক্তি। বাসা থেকেই মোবাইল ফোন ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তারা দাপ্তরিক কাজকর্ম সারছেন।

ইতোমধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের ২ জন কাউন্সিলর ও মাস্টাররোলে কর্মরত ২ জন স্টাফ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কাউন্সিলর দুজন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। স্টাফ দুজন নিজ বাসায় আইসোলেশনে আছেন। এরমধ্যে মঙ্গলবার সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামা হকের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সিসিক সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে নগরভবনে প্রবেশের জন্য সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ভবনের বাইরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, সকলের মাস্ক ব্যবহার করা, শরীরের তাপমাত্রা মেপে নগর ভবনে প্রবেশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গর্ভবতী, অ্যাজমা রোগী, বয়স্ক ও অসুস্থদের বাসায় থেকে অফিসের কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সচিব ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সিলেট সিটি করপোরেশন বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নগর ভবনের সামনে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকলকে মাস্ক ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া আমাদের স্টাফ যারা গর্ভবতী, অ্যাজমা আক্রান্ত, বয়স্ক আছেন তাদেরকে বাসায় থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, সিসিকের দুজন স্টাফ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সংস্পর্শে থাকার কারণে আমি হোম কোয়ারেন্টিনে আছি। তবে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলেও মোবাইল ফোন ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজগুলো করছি। কোয়ারেন্টিন শেষ করেই অফিসে যোগ দিব।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলেও সিসিকের কাজ থেমে নেই। আমি শুধু অফিসে যাচ্ছি না। তবে ঘরে বসে মোবাইল ফোন ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিসিকের সকল জরুরি কাজ করছি। বাসায় থাকলেও সবসময় স্বাস্থ্যবিধি মানছি। তাই সকলের উচিত এই করোনাকালে সরকার কর্তৃক নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। এ ব্যাপারে নগরবাসীকে সচেতন করতে সিসিকের পক্ষ থেকে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। কারণ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

সিসিক মেয়র আরও বলেন, আমি আশা করি প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে সিলেটে আরও করোনা চিকিৎসার সেন্টার চালু করবে। এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে সিসিকের উদ্যোগে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য দুটি বুথ চালুর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ