করোনা জয় করলেন ৮৪ বছরের মনসুর মাস্টার

রাজশাহীর মোহনপুরে ৮৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনসুর রহমান করোনা জয় করেছেন।

রোববার তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক।

সোমবার সকাল ১০টায় মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে বিশেষ সংবর্ধনা ও ছাড়পত্র দেয়া হবে।

গত ২৬ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষায় মনসুর মাস্টারের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এর পর বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হয়েছেন। কয়েক দফা পরীক্ষা শেষে ৩৫ দিন পর তিনি করোনামুক্ত হলেন।

মনসুর রহমানের বাড়ি উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের নওনগর গ্রামে। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার এক ছেলে ও চার মেয়ে। ছেলের সঙ্গে তিনি গ্রামের বাড়িতে বসবাস করেন।

করোনা জয় করে প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মনসুর বলেন, ‘আমি যদি রোগ-শোক নিয়ে এই বয়সে করোনা থেকে মুক্ত হতে পারি, তা হলে মনোবল থাকলে সবাই এই রোগে জয়ী হতে পারবেন।’

মনসুর মাস্টার জানান, করোনা শনাক্ত হওয়ার পর তাকে একা থাকতে হয়েছে। এই বয়সে একা থাকাটা তার জন্য একটু কষ্টই ছিল। তবে পরিবারের লোকজন, চিকিৎসক ও উপজেলা প্রশাসন এবং মোহনপুর থানার পুলিশ সবসময় তার পাশে ছিলেন। সে জন্য ভয় অনেকটা কেটে যায়। মানুষ মানুষের পাশে থাকলে এ রোগেও কোনো ভয় নেই।

তিনি আরও বলেন, তার সুস্থতার জন্য, পাশে থাকার জন্য মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসনসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকরা জানান, মনসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছেন। গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে (করোনা পর্যবেক্ষণ ওয়ার্ড) ভর্তি করেন।

এর পর মনসুর মাস্টারের এক্স-রে ও ইসিজি করার পর শারীরিক অবস্থা ভালো জানিয়ে ২১ এপ্রিল দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।

পরিবারের লোকজন সেদিন তাকে বাড়ি নিয়ে যান। এর পর ওই বৃদ্ধের জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে ২৫ এপ্রিল তাকে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা।

সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করে চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ২৬ এপ্রিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

মনসুরের ছেলে আল আমিন সরকার জালাল জানান, বাবা এই বয়সে করোনা জয় করলেন। এটি এখন তাদের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিপূর্ণ সেবা দিলে খুব সহজেই সুস্থ হয়ে যাবে বলে মনে করি।

মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা আরিফুল কবীর বলেন, মনসুর রহমানের সুস্থ হওয়াটা বিস্ময়কর। তিনিই সম্ভবত বাংলাদেশে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন, যিনি এই বয়সেও করোনামুক্ত হলেন।

তিনি আগে থেকেই হৃদরোগসহ নানা অসুখে ভুগছিলেন। এ অবস্থায় এই বয়সে তিনি করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এটি সব বয়সী করোনা রোগীর জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ