সংক্রমণ বাড়লে কঠোর লকডাউন

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সাধারণ ছুটি শেষ হয়েছে শনিবার। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত অফিসে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে এ সময়ে করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়লে কঠোরভাবে লকডাউন দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

শনিবার গণভবনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এমন পরামর্শ দেন কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য বলেন, আমরা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেছি। ওনাকে সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ায় জনসমাগমে করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে যে আশঙ্কা করেছি সেটা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের কথা শুনেছেন আর বলেছেন, সংক্রমণ যদি দ্রুত বৃদ্ধি পায় তাহলে আবারো কঠোর লকডাউন করা হবে।

গণভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মাদ শহীদুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পিএমও সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, অধ্যাপক মাহমুদ হাসান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, কভিড-১৯ প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরো বেশি সম্পৃক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের বিস্তার রোধ করার পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মেডিকেল সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনা এবং করোনায় আক্রান্তদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপগুলোও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয় বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন সাধারণ ছুটি দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলছে। এতে অনেকের হয়তো কষ্ট হচ্ছে না কিন্তু গরিব মানুষের তো কষ্ট হচ্ছে। কাজকর্ম নেই। আর চালডাল টাকাপয়সা যথেষ্ট নয়, মানুষের তো অন্যান্য প্রয়োজনও আছে। এগুলোর জন্য সতর্কতা বজায় রেখে উনি খোলার পরিকল্পনা করেছেন। তবে পরিবহন চললেও সেখানে কতগুলো নিয়ম করা হয়েছে। তারপর আবার কতগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে মানুষ অফিসে যাবে এবং কাজ করবে। আর বড় জনসমাগমগুলো অ্যাভয়েড করা হবে। বাজারও খোলা জায়গায় করা হবে। যাতে করে কভিডের সংক্রমণটা না বাড়ে। যেহেতু দরিদ্র মানুষের কষ্টটা বেশি এ কারণে কিছুটা খোলা হচ্ছে।

ওই সদস্য বলেন, সংক্রমণ বাড়লে আমরা আবার ছুটি বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছি। তিনি সেটা আমলে নিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে সংক্রমণ কতটা বৃদ্ধি পাবে কিংবা আদৌ বৃদ্ধি পাবে কিনা, সেটার ওপর নির্ভর করবে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া খোলার পর সংক্রমণ বাড়বে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আমাদের বলেছেন, শিথিল করার পর সংক্রমণ যাতে না বাড়ে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তারা বলেন, আর আমরা বলেছি এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো খোলা ঠিক হবে না। আগামী কয়েকদিন কী পরিস্থিতি হয় সেটা দেখেই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের বলেছেন বিষয়টি দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।

সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। যার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। ভিড় করে ট্রাকে, বাসে, ফেরিতে যাতায়াত সবার জন্য ঝুঁকি। এটা সবাইকে এড়িয়ে চলার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

আরেকজন সদস্য বলেন, বৈঠকে আমরা আমাদের সংক্রমণের হার, টেস্ট এগুলোর সঙ্গে সাধারণ ছুটির বন্ধের বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা আমাদের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। তিনি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে করোনা টেস্ট বৃদ্ধির বিষয়ে কথা হয়েছে। সেখানে অপ্রয়োজনে টেস্ট বাদ দিয়ে যাদের মধ্যে উপসর্গ আছে তাদের সবার টেস্ট করার জন্য জোর দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন টেস্ট বাড়াতে হবে। আর যাদের উপসর্গ আছে এমন কেউ টেস্ট থেকে যাতে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, প্রয়োজন হলে আবারো কঠোর লকডাউন দেবেন তিনি।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৩ মার্চ সরকার প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে দ্বিতীয় দফায় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ও চতুর্থ দফায় ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বর্ধিত করা হয়। এর পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় পঞ্চম দফায় ১৬ মে এবং সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধি করে সরকার। ২৫ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি পরিষেবা প্রদানের সঙ্গে জড়িত সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং তাদের অধীন অফিসগুলো বর্ধিত সাধারণ ছুটির দিনে সীমিত আকারে খোলা থাকবে। সর্বশেষ গত ১৪ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ১৭ মে থেকে যে সাধারণ ছুটি, শবে কদরের ছুটি, সাপ্তাহিক ছুটি এবং ঈদের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয় তা শেষ হয় ৩০ মে। করোনার সংক্রমণ রোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ