প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ, মৃত সন্তান প্রসব

করোনার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতিরা প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় বাড়ছে মা ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি। করোনা আতঙ্কে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ায় প্রসূতি মা সড়কে সন্তান প্রসবের ঘটনাও ঘটেছে এই জেলায়।

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরের কামারপাড়ার গৃহবধূ মোর্শেদা বেগম। প্রসবের আগে ঘুরেছেন সরকারি মাতৃসদন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। কিন্তু তারপরও পাননি চিকিৎসাসেবা। পরে, বাধ্য হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সেখানে মৃত সন্তান জন্ম দেন তিনি। চিকিৎসকরা জানান, গর্ভের সন্তান আগেই মারা গেছে।

মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, ’প্রথম দিন ওখানে ভালো চিকিৎসা পেলে তার গর্ভের সন্তান বেঁচে থাকতো। চেষ্টা করেছিলাম ওখানে থাকার জন্য। পরে তারা বলেছে এখানে হবে না। অন্য জায়গায় যাও।’

গত মাসের প্রথম সপ্তাহে তীব্র প্রসব ব্যথা উঠলে গাইবান্ধার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নেয়া হয় মিষ্টি আকতারকে। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ঢুকতে না দেয়ায় রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন তিনি।

এদিকে, সাদুল্যাপুরের রাশেদা বেগমের প্রসব ব্যথা উঠলে নেয়া হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু ভর্তি না নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটেই সন্তান জন্ম দেন তিনি। তার মতো আরও অনেকেই সেবা না পেয়ে হয়েছেন ভোগান্তির শিকার। এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নীলুফার ইয়াসমিন শিল্পী বলেন, ‘একটা অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।’

এই দুঃসময়ে সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানান সাবেক বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক ডা. অমল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এই বিষয়টিতে নজর দেয়া। কেউ যেন এই সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।’

তবে, নানা অভিযোগ থাকলেও সিভিল সার্জন বলছেন, সংকটের মধ্যেও দেয়া হচ্ছে সেবা। গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন এ বি এম আবু হানিফ বলেন, ‘প্রশাসনিক তদন্তে যিনি দোষী প্রমাণিত হবেন, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ