সিলেটের ৩ লাখ ৩৫ হাজার পরিবার পাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর ও শ্রমজীবীদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবার আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের ৩ লাখ ৩৫ হাজার পরিবার রয়েছে।

এই অর্থকে সঙ্কটে পড়া মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বলছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার প্রথানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলার ১ লাখ ৩০ হাজার পরিবার, হবিগঞ্জের ৭৫ হাজার পরিবার, সুনামগঞ্জের ৭৫ হাজার পরিবার এবং মৌলভীবাজারের ৫৫ হাজার পরিবার এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। ইতোমধ্যে বিভাগের চার জেলা থেকে তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। সিলেট জেলার ১ লাখ ৩০ হাজার পরিবারের মধ্যে সিলেট নগরীর ৪০ হাজার ও সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার ৯০ হাজার পরিবার রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই নগদ অর্থ সহায়তা মোবাইল ব্যাকিং সার্ভিস নগদ, বিকাশ, রকেট ও শিওরক্যাশের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগী পরিবারের কাছে প্রেরণ করা হবে। তাই উপকারভোগী পরিবারের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা অনেকের নিজস্ব মোবাইল ফোন নেই। ফলে উপকারভোগী পরিবারের নিকটাত্মীয় অথবা তার বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তির মোবাইল নাম্বার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিক উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পর্যায় থেকে অনলাইনে সরাসরি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। দরিদ্র মানুষদের তালিকা তৈরির পর ট্যাগ অফিসার ও স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে এসব তালিকা যাছাইবাছাই করা হয়েছে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, হবিগঞ্জ জেলার ৭৫ হাজার পরিবারের তালিকা পাঠানো হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী আমরা তালিকা করে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে আজ ৩৯টি পরিবার আজ আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পেয়েছে। যাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে সবাই নিম্নআয়ের এবং কর্মহীন মানুষ। এক্ষেত্রে অনেকের নিজস্ব মোবাইল না থাকার কারণে স্থানীয় ইউপি সদস্য বা তার নিকটাত্মীয়ের মোবাইল নাম্বার দেওয়া হয়েছে। তাই এই তালিকা আবারও যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত করে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, আশা করছি ঈদের আগেই সবাই টাকা পেয়ে যাবেন। তবে ঈদ উপহার বলা হলেও এই আর্থিক সহায়তা শুধু মুসলিম সম্প্রদায়কে দেওয়া হবে এমন নয়। কর্মহীন, নিম্মআয়ের মানুষ যে ধর্মেরই হোন তালিকায় তার নাম থাকলে তিনি টাকা পাবেন।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশরাফ আলী বলেন, আমাদের জেলা থেকে ৫৫ হাজার পরিবারের তালিকা পাঠানো হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্বন্নয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ট্যাগ অফিসার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা এই তালিকা প্রস্তুতে সহায়তা করেছেন। আমরা সার্বিকভাবে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারণ এই সহায়তাটা পাবেন নিম্মআয়ের কর্মহীন মানুষজন।

এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আল ইমরান বলেন, আমাদের উপজেলা থেকে ৭ হাজার অসহায় মানুষের তালিকা পাঠানো হয়েছে। আজ থেকে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই টাকা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত সবাই পাবেন।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, আমার উপজেলায় ১১ হাজার মানুষের তালিকা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ