কঠোর বিধিনিষেধ জারি রেখে করোনাযুদ্ধে সফল হওয়ার ঘোষণা কেরালার

ধারণী পর্যায়ে উৎফুল্লতা দেখা দিয়েছে। দেশটির সরকারি কর্তৃপক্ষ শনিবার করোনাযুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে কোনোভাবেই যাতে করোনার বিস্তার ঘটতে না পারে তাই বিরাজমান কঠোর বিধিনিষেধ জারি থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী পিনরায় বিজয়রনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী সরকারের অর্থমন্ত্রী থমাস আইজ্যাক শনিবার এক টুইট বার্তায় সরকারের পক্ষে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফল হওয়ার এই ঘোষণা দেন। তিনি লিখেছেন, ‘রোগী শনাক্ত হওয়ার শততম দিনে কেরালা করোনাকে সংক্রমণের গতিপথ বদলে দিয়েছে।’

মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন শুক্রবার বলেন ‘গত ৩০ জানুয়ারী কেরালায় প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১০০ দিন পার হয়েছে। সংক্রমণের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছিল মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে। আজ শুক্রবার দুই মাস পর আমরা এই ভাইরাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‌‘আমাদের করোনা আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার হার গোটা বিশ্বে সর্বোচ্চ। আমরা সংক্রমণের তৃতীয় ধাপ এড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করছি, তবে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আগামী দিনগুলিতে আমাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।’

কেরালায় করোনা বিরোধী লড়াইয়ে যে সফলতা আসছে, তার কিছু কারণের মধ্যে ব্যাপকহারে পরীক্ষা, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন, সুসংহত চিকিৎসাব্যবস্থা এবং আইনের কঠোরতার মতো বিষয়গুলো অন্যতম।

করোনা মোকাবিলায় কেরালার গৃহীত এসব পদক্ষেপের প্রশংসা করে বিশ্বজুড়ে তা ‘কেরালা মডেল’ হিসেবে বেশ আলোচিত হচ্ছে। বিশ্ব গণমাধ্যমসহ ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) মতো বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেরালাকে অনুসরণীয় হিসেবে অভিহিত করেছে।

শুধু আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত ও আইসোলেশন নয় দেশজুড়ে হঠাৎ লকডাউনের কারণে আটকে পড়া হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা ও কয়েক লাখ শ্রমিকের কাছে নিয়মিত খাবার পৌঁছানোর মতো মানবিক উদ্যোগের কারণেই করোনা মোকাবিলায় সফল হয়েছে কেরালা।

ভারতে কেন্দ্রীয়ভাবে বিধিনিষেধ আরোপের আগেই অত্যধিক সতর্ক কেরালার রাজ্য সরকার বিমানবন্দরগুলোতে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা চালু করে। বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে যেতে হতো সেখানে। ভারতের অন্যত্র এই নিয়ম করা হয় কেরালার দুই সপ্তাহ পরে।

চীনের উহান থেকে আসা এক মেডিকেল শিক্ষার্থী প্রথম সেখানে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে ওই রোগী শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল সেখানে। তারা আগে থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয় ও কর্মপরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছিল।

প্রাদুর্ভাব শুরুর পরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করছি।’ কেরালার জনগণ প্রায় শতভাগ শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রবল সচেতন, তারাও সংগঠিত হয়ে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের সার্বক্ষণিক এই সজাগ ভূমিকা পালনে বাধ্য করে চলেছে।

অথচ বাকি ভারতে আক্রান্ত ক্রমেই বাড়ছে। গত কয়েকদিনে এই বৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনক। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৬০ হাজার ছুঁই–ছুঁই। আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৯৮১ জন মারা গেছে। সুস্থ হয়েছেন প্রায় ১৮ হাজার। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে দেশটিতে লকডাউন চলছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ