টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩

কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিন ডাকাত নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন চার কর্মকর্তাসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য।

বুধবার (৬ মে) ভোরে হ্নীলা রঙিখালির পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সৈয়দ আলম, নুরুল আলম এবং সৈয়দ হোসেন। তারা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা এবং পাহাড়ি ডাকাত বাহিনীর সদস্য ছিল।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, গোপন সংবাদ পেয়ে বুধবার ভোরে রঙিখালি ডাকাতের আস্তানায় পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এসময় ঘটনাস্থলে ওই তিন জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। ডাকাতদের আস্তানা থেকে ১৮টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ওসি প্রদীপ জানান, আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখনও অভিযান চলমান রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুমানা রশিদ বলেন, বুধবার সকল ৯টার দিকে পুলিশ সদস্যরা তিন জন ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে এবং আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ২৯ এপ্রিল ধানক্ষেত থেকে স্থানীয় আক্তার উল্লাহ (২৪) নামে এক কৃষককে অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা ডাকাতরা এমন অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

একই এলাকার শাহ মোহাম্মদ শাহেদ (২৫), মোহাম্মদ ইদ্রিস (২৭) নামে আরও দুই কৃষককে তুলে নিয়ে গেছে তারা।

আক্তার উল্লাহর পরিবারের দাবি, সম্প্রতি তাকে অপহরণ করে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে রোহিঙ্গা ডাকাতরা। মুক্তিপণের টাকা না পাওয়ায় শুক্রবার ভোরে তাকে হত্যার পর লাশ টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের উনছিপ্রাং পুটিবনিয়া নামক রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিমে রাখা হয়েছে পরিবারের কাছে এমন খবরও পৌঁছে দিয়েছে ডাকাতরা। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় অপহৃত বাকি দুইজনকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের পাঁচ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৩৬ জন নিহত হয়েছে। তার মধ্যে ২২ জন সক্রিয় ডাকাত ছিল।

এ বিভাগের আরো সংবাদ