সিলেটের বালাগঞ্জে করোনার হালচাল: তথ্য বিভ্রাটের শেষ কোথায়?

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ই-মেইল বার্তায় দুই যুবকের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে। ৫মে সকালের দিকে হাসপাতাল কতৃপক্ষ এই বিষয়টি নিশ্চিত হন বলে জানা গেছে। করোনা সচেতনতার অংশ হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টিম ২১এপ্রিল বেশ কয়েক জনের নমুনা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট ল্যাবে প্রেরণ করেন। এর মধ্যে বালাগঞ্জ ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রাম থেকে ২৬বছর বয়সী যুবকের (নামের অর্ধাক্ষর-তুর..) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তার বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালা বাজার ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- ওই যুবকের ভগ্নিপতির বাড়ি বালাগঞ্জের কাজিপুর গ্রামে। ভগ্নিপতির পরিবারের এক সদস্য ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত কয়েক দিন আগে মারা যান। ওই যুবক সেই রোগীর সাথে ঢাকায় কয়েক দিন অবস্থান করে বোনের বাড়িতে ওঠেন। এরপর মেডিকেল টিম তার নমুনা পরীক্ষা করেন। করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসার আগেই তিনি ওসমানীনগরের নিজ বাড়িতে চলে যান। পজেটিভ রিপোর্টের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওসমানীনগরের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তার বাড়িটি লকডাউন করেছেন, তাকে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারান্টাইন করা হয়েছে।

২১এপ্রিল বালাগঞ্জ ইউনিয়নের আরেকটি গ্রামে ঢাকা ফেরৎ ২৬বছর বয়সী (নামের অর্ধাক্ষর-মারু..) এক নির্মাণ শ্রমিকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। রিপোর্ট পজেটিভ আসায় বাড়ি লকডাউন করে তাকে হোম কোয়ারান্টাইন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা করোনা পজেটিভ দুই যুবকের বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করায় গণমাধ্যম কর্মীরা বিব্রতবোধ করছেন। সাধারণ মানুষজনও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। আসলেই কী করোনা সনাক্ত হচ্ছে নাকি অন্য কিছু এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলে স্যোশাল মিডিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

সাংবাদিকরা নয় কর্তৃপক্ষই তথ্য বিভ্রাট করছেন এই প্রসঙ্গের উদৃতি দিয়ে সাংবদিকরা বলেছেন- দুই জনের করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। একজনের বাড়ি ওসমানীনগরে হলেও বালাগঞ্জে তার নমুনা সংগ্রহ করায় এখানে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই দুই জনের বাড়ি বালাগঞ্জে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তথ্য সরবরাহ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনার বিষয়ে তথ্য প্রদানকারী জনৈক ব্যক্তি একেক সময় একক রকম তথ্য প্রদান করায় বিভ্রান্তির বিষয়টি আরো প্রকট হয়েছে।

বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলার করোনা সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে । এ বিষয়ে তথ্য প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা তালগোল পাকাচ্ছেন।

দু’জনের পজেটিভ রিপোর্ট আসার বিষয়ে সাংবাদিকরা যখন ফোন করেন তখন উপস্থিত সময়ে রোগী সনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও রোগীর বিস্তারিত তথ্য তারা জানাতে পারেন না।

অপর দিকে করোনা সচেতনতায় ওই দুই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করার দুই সপ্তাহ পর রিপোর্ট আসায় স্থানীয়রা বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। নমুনা সংগ্রহ করার পর থেকে মধ্যেখানে দির্ঘ সময়ে ওই দুই যুবক অবাধ বিচরণ, মানুষের সাথে ওঠাবসা ও কৃষি কাজ করেছেন। তারা অসংখ্য মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন এতে ঝুঁকির মাত্রা কতটুকু তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এবিষয়ে ৫মে সন্ধ্যার দিকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এমএস শাহরিয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার পজেটিভ রিপোর্ট আসা দুই জনের মধ্যে একজনের বাড়ি ওসমানীনগরে হলেও বালাগঞ্জে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। রিপোর্ট হাতে আসার পর তার সঠিক নাম-ঠিকানা যাছাইয়ে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বালাগঞ্জে করোনা পজেটিভ ওই যুবকের বিষয়ে তিনি বলেন মেডিকেল টিম ও প্রশাসনের লোকজন সেখানে গিয়েছেন পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে বালাগঞ্জে আরেক যুবকের কনোরা পজেটিভ রিপোর্ট আসায় তাকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। তার বাড়ি সুনামগঞ্জে হলেও কর্মের সুবাদে তিনি বালাগঞ্জে বসবাস করছেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ