নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ১০৫৩ জনের মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু

দেশে করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা নারায়ণগঞ্জে প্রথম মৃত্যু বরণ করেন সিটি করপোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক নারী। মৃত্যুর দুইদিন পর জানাযায় তার ফলাফল। তারপর আজ সোমবার পর্যন্ত গত ৩৫ দিনে জেলায় মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয়েছেন ৫০ জন। আর গত ৮ মার্চ দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার হওয়ার পর গত ৫৫ দিনে সে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে।

সোমবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্ব প্রাপ্ত সচিব ও সাভার লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর মো. রকিব হোসেন এনডিসি গত ৩০ এপ্রিল বলেছেন, কোভিড-১৯ এর হটস্পট হিসেবে নারায়ণগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সক্রিয় ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে কাজ করতে হবে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের মহামারির সময় গত বেশ কয়েকদিন ধরে জেলা প্রশাসন এবং আইইডিসিআর এর তথ্যের গড়মিল আজও রয়ে গেছে। আইইডিসিআর এর তথ্য অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১০২১ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৪ জন এবং কেউ মারা যায়নি। জেলায় আজ সকাল পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা আগের দিনের উল্লেখ করা ৪০ জনই আছে।

অপরদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ২ জন। নতুন শনাক্ত হয়েছেন ২৭ জন। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৮ জন।

এতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসন ও আইইডিসিআর এর মধ্যে তথ্যে মৃত্যুর সংখ্যায় ১০ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যায় ৩২ জনের ব্যবধান রয়েছে।

জেলায় ইতিমধ্যে আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, র‌্যাব, পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিক রয়েছেন ১৪ ভাগের বেশী। ইতিমধ্যে জেলায় আক্রান্ত প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, চিকিৎসক এবং সাংবাদিক সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আক্রান্ত র‌্যাব-১১ এর সদস্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলা দুটি আইসোলেশন সেন্টারে। ওই দুটি সেন্টার তাদের নিজস্ব ক্যাম্প ও সদর দপ্তরে স্থাপন করা হয়েছে।

করোনাভাইরাস নিয়ে জেলা প্রশাসনের তথ্য :
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে আজ সকাল পর্যন্ত জেলার মোট ৩ হাজার ৫২৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৯৫ জনের। আর গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ২৭ জন। এতে সর্বমোট আক্রান্ত পৌঁছে গেছে ১০৫৩ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। নিহত দু’জনের একজন এবং নতুন সনাক্ত ২৫ জনের মধ্যে ১৪ জনই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এতে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ জনে। এ সময়ে আরও এক জন সুস্থ হয়েছেন। এরফলে মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৮ জন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার ৭৭৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঘোষিত ফলাফলে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৬৪৬ জন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৫ জন এবং সুস্থও হয়েছেন ৩৫ জন। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এলাকায় ১৮৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৩০৯ জন।

আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ১১ জন এবং আরোগ্য লাভ করেছেন ১০ জন। আড়াইহাজার উপজেলায় ৩৫০ জনের নমুনা সংগ্রহের পর প্রাপ্ত ফলাফলে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ২৮ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ জন। রূপগঞ্জ উপজেলার ১৫৭ জনের নমুনা সংগ্রহের পর প্রাপ্ত ফলাফলে আক্রান্ত সনাক্ত ১৪ জনের মধ্যে মারা গেছেন ১ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ জন।

সোনারগাঁ উপজেলায় ১৭৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৩৩ জন। তাদের মধ্যে ২ জন মারা গেছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ জন। বন্দর উপজেলায় (নারায়ণগঞ্জ নগরীর বাহিরে) ২২৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ২৩ জন আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে মারা গেছেন ১ জন এবং এখনও কেউ সুস্থ হয়ে উঠেনি।

করোনাভাইরাস বিষয়ে আইইডিসিআর এর তথ্য :
আইইডিসিআর ঘোষিত তথ্য অনুযায়ী ৮ মার্চ দেশের প্রথম ৩ জন করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তি সনাক্ত হয়। তারা ছিলেন বিদেশ ফেরত এবং নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। এরপর ৬ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে নারায়ণগঞ্জে মোট আক্রান্ত সনাক্ত হয় ২৩ জন। তারপর থেকেই পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা।

৭ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্ত হয় ৩৮ জন। ৮ এপ্রিল এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬ জনে, ৯ এপ্রিল ৫৯ জনে, ১০ এপ্রিল ৭৫ জনে, ১১ এপ্রিল ৮৩ জনে, ১২ এপ্রিল ১০৭ জনে, ১৩ এপ্রিল ১৪৪ জনে, ১৪ এপ্রিল ১৬৪ জনে ১৫ এপ্রিল ২১৪ জনে। ১৬ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত আক্রান্ত  ২৫৫ জন, ১৭ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত ছিল মোট ২৮৯ জন।

১৮ এপ্রিল সকালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৯ জনে, ১৯ এপ্রিল ৩৮৬ জনে, ২০ এপ্রিল ৩৮৭ জনে, ২১ এপ্রিল ৪৬৯ জনে, ২২ এপ্রিল ৫০৮ জনে, ২৩ এপ্রিল ৫৩২ জনে, ২৪ এপ্রিল ৫৬৬ জনে, ২৫ এপ্রিল ৫৯৪ জনে, ২৬ এপ্রিল ৬২৫ জনে, ২৭ এপ্রিল ৬৯৯ জনে, ২৮ এপ্রিল ৮৪৯ জনে, ২৯ এপ্রিল ৮৬৩ জনে, ৩০ এপ্রিল ৯২৩ জনে, ১ মে ৯৬৬ জনে, ২ মে ৯৮৭ জনে, ৩ মে ১০০৭ জনে এবং আজ ৪ মে সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ১০২১ জনে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ