বরিশালে ত্রাণ তহবিলে ভাতার টাকা দিলেন প্রতিবন্ধী বাদশা

যুগান্তর :

নিজের ভাতার টাকা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ তহবিলে দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. বাদশা খান।

হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। সমাজসেবা অধিদফতর থেকে প্রতি মাসে ৬০০ টাকা ভাতা পান। করোনা সংকটের কারণে অনেক মানুষ না খেয়ে আছে, এটি দেখে তার ভাতার তিন হাজার এবং জমানো দুই হাজারসহ মোট পাঁচ হাজার টাকা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ তহবিলে জমা দেন।

বুধবার বিকাল ৪টার দিকে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের হাতে এ টাকা তুলে দেন বাদশা।

নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড হাজেরা খাতুন স্কুল এলাকায় প্রতিবন্ধী বাদশা স্ত্রী, কন্যা, মা ও ভাইদের সঙ্গে বসবাস করেন। নগরীর নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনালসংলগ্ন এলাকায় তার একটি দোকান রয়েছে।

বাদশা যুগান্তরকে জানান, প্রতিবন্ধী হিসেবে প্রতি মাসে ৬০০ টাকা ভাতা পান তিনি। পাঁচ মাসের ভাতার তিন হাজার টাকা ১ রমজান তিনি উত্তোলন করেন ব্যাংক থেকে। এ ছাড়া তার হাতে জমানো ছিল দুই হাজার টাকা। এই মোট পাঁচ হাজার টাকা বুধবার দুপুরে নগরীর সদর রোডস্থ জনতা ব্যাংকে সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ তহবিলের অ্যাকাউন্টে জমা দেন তিনি।

বিকালে এই রসিদ মেয়রের হাতে দেখা করে তুলে দেন।

বাদশা বলেন, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বরিশাল নগরবাসীর মধ্যে যারা নিম্নআয়ের, তাদের খাবার দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে অর্ধলাখ নিম্নআয়ের পরিবারকে খাবার তুলে দিয়েছেন।

প্রতিদিন এ কাজে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে। সেই ব্যয়বহনের জন্য মেয়র ত্রাণ তহবিল গঠন করেছেন। আর তাকে সহযোগিতা করার জন্য নিজের হাতে থাকা সবটুকু সেই ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন।

একই সঙ্গে নগরীর বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বাদশা বরিশালবাসীর গর্ব। শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও তিনি যে কাজটি করেছেন তা বাকি সবার জন্য অনুকরণীয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ