৯ হাজার কোটি ডলারে বাঁচবে ৭০ কোটি মানুষ: জাতিসংঘ

যুগান্তর ডেস্ক :

বিশ্বের ৭০ কোটি গরিবকে বাঁচাতে জাতিসংঘের ৯ হাজার কোটি ডলার (৯০ বিলিয়ন) প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটির মানবাধিকার প্রধান মার্ক লোকক।

মহামারী করোনাভাইরাসের কবলিত দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা, খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ অর্থ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ অর্থ বিশ্বের ধনী ২০ রাষ্ট্রের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ ৮ লাখ কোটি ডলারের মাত্র এক শতাংশ। সোমবার এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এটা বিশ্বাস করেন যে, কোভিড-১৯ এখনও বিশ্বের দারিদ্র্যকবলিত অংশে পৌঁছেনি।

কিন্তু আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে সেখানে করোনা হানা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। লোকক বলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৭০ কোটি মানুষ দরিদ্র।

৩০ থেকে ৪০ দেশে বসবাস এসব মানুষ করোনার প্রাদুর্ভাব ও সরকার ঘোষিত লকডাউন ও বিধিনিষেধের কারণে আয় থেকে বঞ্চিত। তাদের আয় বঞ্চিত থেকে সুরক্ষায় ছয় হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন।

বাকি তিন হাজার কোটি ডলার তাদের ক্ষুধা মেটাতে খাদ্য ও করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্যসেবায় দরকার। লোকক আরও বলেন, সম্ভবত ৯ হাজার কোটি ডলারের দুই-তৃতীয়াংশ বিশ্ব ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মতো বিশ্ব আর্থিক সংস্থা থেকে আসবে।

বাকি অংশ সরকারের উন্নয়ন সহায়তা থেকে অনুবাদ বাড়ালেই পাওয়া সম্ভব। এটি বিপুল পরিমাণ অর্থ। জাতিসংঘ এ অর্থ পাওয়ার আবেদন জানাচ্ছে না। তবে গরিবের ভোগান্তি ও মৃত্যু কমাতে এই অর্থ খুবই প্রয়োজন।

এর আগে ২৫ মার্চ জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দরিদ্রদের সুরক্ষায় ২০০ কোটি ডলার তহবিলের আবেদন জানিয়েছেন। লোকক বলেন, ইতোমধ্যে ১০০ কোটি ডলারের বেশি হাতে পেয়েছে জাতিসংঘ। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় জার্মানি ৩০ কোটি ইউরো দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে, করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে শিশুরা কম ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সোমবার জেনেভায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসেস বলেন, করোনায় সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকা দেয়ার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বে প্রতি বছর ১১ কোটি ৬০ লাখ শিশুর টিকার প্রয়োজন হয়। পোলিও, হাম, কলেরা, হলুদ জ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ টিকাদানে বিলম্ব হওয়ায় বিশ্বের এক কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে।

অন্যদিকে, লকডাউনের সময় ও এর পরবর্তীতে শ্রমিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাসচিব গাই রাইডার। বিশ্ব শ্রমিক দিবসকে সামনে রেখে তিনি বলেন, আমাদের পুরো শ্রমশক্তির স্বাস্থ্য সুরক্ষাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

করোনা মহামারীর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকদের কাজে ফেরানোর প্রয়োজনে তাদের যথাযথ সুরক্ষার বিকল্প নেই। অন্যথায় করোনার দ্বিতীয় দফা সুনামির আশঙ্কা করেছে আইএলও।

আর এতে আবারও বন্ধ হবে কর্মস্থল, থমকে যাবে অর্থনীতির চাকা। রাইডার আরও বলেন, মহামারীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যোদ্ধা যেমন নার্স, ডাক্তার, ক্লিনার, তাদের খাদ্য সরবরাহকারী ও অন্যান্য কর্মী- যারা প্রতিদিন অন্যের সেবায় নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছেন, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ