বিশ্বে করোনাজয়ীদের সাড়ে ১৩ শতাংশই জার্মানির

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসকে শক্ত হাতে মোকাবেলা করছে ইউরোপের দেশ জার্মানি। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়ালেও সুস্থ হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ সুস্থ হয়েছেন দেশটিতে, যা সারা পৃথিবীতে এককভাবে কোনও দেশে সর্বোচ্চ। জার্মানিতে মৃত্যুবরণ করেছেন করেছেন ৫ হাজার ৭৮৭ জন। আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়ানো দেশের মধ্যে সেখানে মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া যায়। বিশ্বে করোনা থেকে সুস্থ হওয়াদের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশই জার্মান নাগরিক।

অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের দেশে বন্ধ হয়ে যাওয়া কেইসগুলোতে সুস্থ হয়ে যাওয়া রোগী ৯৫ শতাংশ। আর মৃত্যুবরণ করেছেন মাত্র ৫ শতাংশ।

জার্মানি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে একটি। জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সের মতো আধুনিক ও শক্তিধর দেশ যেখানে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে জার্মানি তাদের চেয়ে ঢের এগিয়ে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে সুস্থের সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার কিন্তু সে দেশের আক্রান্তের সংখ্যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৮।

৮৩ দশমিক ২ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ জার্মানিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪ জন। দেশটিতে প্রায় ২০ লাখ ৭২ হাজার ৬৬৯ জন মানুষকে করোনার পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি সারা বিশ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক পরীক্ষার দিক দিয়ে তৃতীয়। প্রথম স্থানে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫০ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষা করেছে আর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ পরীক্ষা করেছে তারও অর্ধেক ২৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষের।

দেশটিতে বর্তমানে করোনাভাইরাস সক্রিয় রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার ৪৮৭। আর ২ হাজার ৯০৮ জন রোগীর অবস্থা সিরিয়াস। প্রতি মিলিয়নে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫১ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৭ শতাংশের অবস্থা ক্রিটিক্যাল এবং বাকী ৯৩ শতাংশই মৃদু অবস্থায় আছেন।

জার্মানির মৃত্যুর হার আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়ানো দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। প্রতি মিলিয়নে ৬৯ জন মানুষ দেশটিতে মারা যাচ্ছেন কোভিড-১৯ রোগে।

প্রতি মিলিয়নে পরীক্ষার দিকে দিয়ে ইতালির পরেই আছে জার্মানি। জার্মানিতে এক মিলিয়ন জনগণের মধ্যে ২৪ হাজার ৭৩৮ জন পরীক্ষা করেছেন, যেখানে ইতালি পরীক্ষা করিয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪ জনের।

এদিকে করোনাভাইরাস মহামারীতে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জারি করা লকডাউনের কড়াকড়ি শিথিল করতে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে একেক দেশ একেক পন্থায় অগ্রসর হচ্ছে।

কিছু দেশ স্কুল পুনরায় চালু করলেও বন্ধ থাকছে অনেক দেশে। আবার কোথাও ফেস মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হলেও কোথাও থাকছে পরামর্শ আকারে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, জার্মানিতে সোমবার (২০ এপ্রিল) ৮০০ বর্গমিটার আয়তনের চেয়ে ছোট দোকানপাট খোলা হচ্ছে। তবে গাড়ি, সাইকেল ও বইয়ের দোকানের ক্ষেত্রে আয়তন সংক্রান্ত কোনও শর্ত আরোপ করা হচ্ছে না। এই সব দোকানে প্রবেশ করতে হলে কিছু কড়া নিয়ম মেনে চলতে হবে। কিছু রাজ্যে চিড়িয়াখানাও খোলা হচ্ছে। শুধু স্যাক্সনি রাজ্যে উপাসনার উপর নিষেধাজ্ঞা অন্য রাজ্যের তুলনায় আগেই তুলে নেওয়া হচ্ছে।

পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতির স্বার্থে কয়েকটি রাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্লাসে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারবে। বাকি রাজ্যগুলিতে মে মাসে এমন কিছু ক্লাস খোলা হবে বলেও জানায় এপি।

এদিকে কোভিড- ১৯ মানবদেহে ভ্যাকসিন প্রার্থীদের পরীক্ষা করা হয়েছে জার্মানিতে। প্রথমবারের মতো জার্মানিতে পাউল এয়ারলিশ ইন্সটিটিউট Paul-Ehrlich Institut (ভ্যাকসিন এবং বায়োমেডিকাল ড্রাগগুলির পরীক্ষার অনুমোদনদানকারী সরকারি ইন্সটিটিউশন) করোনার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল পরীক্ষার জন্য অনুমোদন দিয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) ফেডারেল ইন্সটিটিউট ফর ভ্যাকসিনস এবং বায়োমেডিকাল মেডিসিনগুলো ঘোষণা করার সাথে সাথে মাইনজ-ভিত্তিক বাইয়ো টেকনোলজি সংস্থা বিওনটেক (BioNTech) কোভিড-১৯ সংক্রামিত রোগীদের উপর তার সক্রিয় উপাদান পরীক্ষা করার অনুমোদন পেয়েছে।

সারা পৃথিবীতে করোনাভাইরাসে বহু মৃত্যুর মধ্যেও আশার আলো দেখা গিয়েছে। জার্মানি করোনার প্রতিষেধক বা টিকা তৈরিতে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছে। পশুর শরীরে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা সাফল্য পাওয়ার পরে এবার মানব শরীরে তার পরীক্ষা হবে বলে জানানো হয়েছে। শুধু জার্মানি নয়, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও ভ্যাকসিন তৈরির কাজ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারী জার্মানিতে প্রথম শনাক্ত করা হয় ২৭ জানুয়ারি। আর কোভিড-১৯ রোগে দেশটিতে প্রথম মৃত্যু হয় ৯ মার্চ।

চীনার উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে বিশ্বব্যাপী মোট আক্রান্ত ২৮ লাখ ৩৭ হাজার ২১৫ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭০৩ জন আর সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৯ হাজার ১৩৭ জন।

করোনার উৎপত্তিস্থল চীনে বর্তমানে এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮১৬। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩২ এবং আরোগ্য লাভ করেছেন ৭৭ হাজার ৩৪৬ জন। ইতিমধ্যে খুলে দেওয়া হয়েছে উহান শহর। সেখানে জীবনযাত্রা এখন স্বাভাবিকের পথে।

এদিকে, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মোট ৩০৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ৪ হাজার ৯৯৮ জন। এছাড়া এই সময়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৪০ জন। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা দেয় আইইডিসিআর। ১৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ