আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ

চীনের  উহান থেকে শুরু হয়ে নভেল করোনাভাইরাস বর্তমানে বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এতবড় মানবিক বিপর্যয় আর দেখা যায়নি। প্রত্যেকটি দেশেই দু-একজনের মাধ্যমে সংক্রমণ শুরু হয়ে পরে তা মহামারির আকারে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম তিনজনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে সময়ের সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলছে।

সংক্রমণের ৪৫তম দিনে (মঙ্গলবার) এসে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু সংখ্যাও ১০০ অতিক্রম করেছে। একই সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের আরও ৮টি দেশের সঙ্গে সংক্রমণ পরিস্থিতির তুলনামূলক বিশ্নেষণে দেখা যায়- যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ভারতের চেয়ে সংক্রমণ শুরুর ৪৫ দিনের মাথায় বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। এই সময়কালে বাংলাদেশের চেয়ে কেবল ইতালি, স্পেন ও ইরানে বেশি মানুষের সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে।

যদিও দেড় মাস পর থেকেই জার্মানি ছাড়া বাকি দেশগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে।

বাংলাদেশে যে পরিমাণে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, টেস্টের পরিমাণ সে তুলনায় অনেক কম। যুক্তরাজ‍্যভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ‍্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশে টেস্টের পরিমাণ সর্বনিম্ন। বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, বাংলাদেশে মে মাসের শেষ দিকে অথবা জুনের প্রথম দিকে সংক্রমণ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

এদিকে, জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশ লকডাউন তুলে নেওয়ার বা শিথিল করার চিন্তা করছে, কিন্তু সামনের পরিস্থিতি হবে আরো ভয়াবহ।

আইইডিসিআর’র তথ‍্য মতে, গত ২৪ ঘন্টায় (২২ এপ্রিল) অর্থাৎ  ৪৬ তম দিনে বাংলাদেশে আরো ৩৯০ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,৭৭২ জন। এছাড়া মৃতের সংখ্যা ১২০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩,০৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২,৬৩০ জনের।

ওয়ার্ল্ডোমিটার বলছে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৮৯ জন মানুষ। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৯ জন। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৮৪৬ জন

পরিসংখানে দেখা যায়, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের চিত্র অনেক খারাপ। নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিভ-১৯) আক্রান্ত বিশ্বের ৮ টি দেশের প্রথম ৪৫ দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইরানে প্রথম দেড় মাসে (৩ এপ্রিল) মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩,১৮৩। মৃত্যু ৩,২৯৪। ইতালিতে প্রথম দেড় মাসে অর্থাৎ ৪৫ তম দিনে (১৬ মার্চ) মোট আক্রান্তের সংখ্যা  ২৩,০৭৩। মৃত্যু ২,১৫৮। স্পেনে  প্রথম ৪৫ তম দিনে (১৬ মার্চ) মোট আক্রান্ত ৯,৯৮২। ম‍ৃত‍্যু ৩৪২। বাংলাদেশে প্রথম দেড় মাসে অর্থাৎ ৪৫ তম দিনে (২১ এপ্রিল) মোট আক্রান্ত ৩,৩৮২। মৃত্যু ১১০। জার্মানিতে প্রথম ৪৫ দিনে (১২ মার্চ) মোট আক্রান্ত ২,৭৪৫। মৃত্যু মোট ৬ জন। যুক্তরাজ্যে প্রথম ৪৫ তম দিনে মোট আক্রান্ত ১,৫৪৩। মৃত্যু ৫৫। ফ্রান্সে ৪৫ তম দিনে (৯ মার্চ) আক্রান্ত ১,৪১২। মৃত্যু ৩০। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম দেড় মাসে (৬ মার্চ) মোট আক্রান্ত ৩১৯। মৃত্যু ১৫। ভারতে প্রথম ৪৫ তম মোট আক্রান্ত ১০০। মারা গেছেন ২ জন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ