সামনে আরও ভয়ানক দিন অপেক্ষা করছে

প্রতিদিন ডেস্ক :

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ইতিমধ্যে ছড়িয়েছে বিশ্বের প্রায় সব দেশে; আক্রান্ত করেছে অন্তত ২৫ লাখ মানুষকে, প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের। তবে চরম বিপর্যয় আসতে এখনো বাকি বলে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশগুলোতে গত কয়েক দিনে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে আসায় যখন বিভিন্ন দেশ অবরুদ্ধ অবস্থা শিথিল করতে শুরু করেছে, তখন এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ব সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসাস। তিনি অবশ্য এ কথা স্পষ্ট করেননি কেন তার মনে হয় ২৫ লাখ মানুষকে সংক্রমিত করার পর এবং পৌনে দুই লাখ মানুষের মৃত্যুর পরও কেন পরিস্থিতি ভয়াবহ নয়। কেন এর প্রাদুর্ভাব আরও খারাপ হতে পারে। তিনি এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা যদিও আগে আফ্রিকা ও অন্য দেশ, যেখানে স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত নয়, সেখানে ভবিষ্যতে ভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি সোমবার জেনেভায় সংস্থার সদর দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশ্বাস করুন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থার এখনো বাকি। আসুন একসঙ্গে সেই ট্র্যাজেডি ঠেকাই। এটা এমন একটা ভাইরাস, যা এখনো মানুষ বুঝতে পারছে না।’ সার্স, মার্সের প্রাদুর্ভাব পেরিয়ে আসা পৃথিবী হিমশিম খাচ্ছে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস মোকাবিলায়, যা প্রায় প্চঁ মাস আগে চীনের উহানে প্রথম মানবদেহে সংক্রমণ ঘটায়। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা বোঝাতে হুয়ের প্রধান স্প্যানিশ ফ্লুর উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, ১৯১৮ সালের এই ফ্লুয়ে বিশ্বের প্রায় ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। করোনাও কম ভয়াবহ নয়। তবে বর্তমানে মানুষ অনেক উন্নত। বিপর্যয়কে নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষমতা রয়েছে মানুষের। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনো মানুষ করোনা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। চীন থেকে একপর্যায়ে তা ছড়িয়ে পড়ে অন্য দেশগুলোতেও; একপর্যায়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে কভিড-১৯ রোগ নাম দিয়ে বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে আখ্যায়িত করে। নতুন এই রোগের টিকা কিংবা প্রতিষেধক না থাকায় আক্রান্তের সংস্পর্শ এড়ানোই রক্ষা পাওয়ার একমাত্র পথ বলে দেশে দেশে লকডাউন জারি হওয়ায় ঘরবন্দী হয়ে পড়ে দুনিয়ার অর্ধেক মানুষ। লকডাউনে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ায় যে ইউরোপে ইতিমধ্যে এক লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে, সেই মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশ নানা বিধিনিষেধ তুলতে শুরু করেছে। লকডাউন তুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রেও। এই পরিস্থিতিতে সতর্কবার্তা দিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। তিনি বলেন, ‘যারা লকডাউন শিথিল করছেন, তাদের আমরা আগেই বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা এখনো বলছি, বিধিনিষেধ শিথিল করে কোনো দেশই এই মহামারী থামাতে পারবে না।’ তিনি নতুন এই করোনাভাইরাসকে বিশ্বের এখনকার ‘এক নম্বর শত্রু’ আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এ এমন এক শয়তান, যার বিরুদ্ধে সবাইকে লড়তে হবে।’ কভিড-১৯ মহামারী বিপর্যয় নামিয়েছে বিশ্ব সংস্থার জন্যও; কেননা সংস্থার তহবিলে সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আর অর্থ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটি প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রাথমিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। হু চীনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলেও অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এ বিষয়ে এক প্রশ্নে গ্যাব্রিয়েসাস বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় কোনো লুকোছাপা নেই, কারণ আমরা মনে করি, কোনো কিছু গোপন করা বিপজ্জনক। আর এটা তো স্বাস্থ্যের মতো বিষয়।’ তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির প্রতিনিধিরাও আছেন। তারা জানেন, শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিছুই গোপন করা হয়নি। যখন যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাই দেওয়া হয়েছে। ‘এই ভাইরাস ভীষণ বিপজ্জনক। যখন আমাদের মধ্যে মতের অমিল ঘটছে, সেই সুযোগে তা আমাদের মধ্যে ভাঙনই ধরিয়ে দিচ্ছে,’ এ প্রসঙ্গে বলেন তিনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ