সংগীতশিল্পী উপমার চমক

এ প্রজন্মের প্রতিভাবান শিল্পী উপমা। সংগীত তার পেশা-নেশা। জীবনের সব কিছুতেই জড়িয়ে আছে সংগীত। একাধারে লাইভ কনসার্ট, টিভি সংগীতানুষ্ঠান, প্লেব্যাক, মিউজিক ভিডিও সব কিছুতেই সিদ্ধহস্ত শারমীন সুলতানা উপমা। রয়েছে তার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক, অফিসিয়াল ভেরিফাইড পেইজ, ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট।

উপমা সম্প্রতি বেলাল খানের সঙ্গে দুটি মিউজিক ভিডিওর কাজ শেষ করেছেন। দ্বৈতকণ্ঠে গাওয়া গান দুটি হলো- ‘শুধু তোর জন্য’ এবং ‘নাছোড়বান্দা’। প্রথমটি ইউটিউবে ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। অন্যটি আগামী মাসে প্রকাশিত হবে।

উপমা যেমন আধুনিক গানে পারদর্শী তেমনি ক্লাসিক্যাল, নজরুল সংগীতেও তার প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আরটিভিতে প্রচারিত হয় জোভান ও মম অভিনীত ‘পাজরের টান’ নাটকটি। এ নাটকের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন উপমা। সঙ্গে সহশিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন মেহতাজ। গানটি শ্রোতা-দর্শকদের কাছে বহুল প্রশংসিত হয়েছে।

বর্তমান যুগে একজন সংগীতশিল্পীর জনপ্রিয়তা বিচার করা হয় ‘ভিউ’ এর মাধ্যমে। তবে এ ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পোষণ করেন উপমা। তার মতে, ভিউয়ের মাধ্যমে গান হিট বা ফ্লপ হয়েছে এটি বিচার করা যেমন ঠিক নয় তেমনি একজন শিল্পীর যোগ্যতা ‘ভিউ’য়ের মাপকাঠিতে হতে পারে না।

তবে গান যে রকমই হোক তা অবশ্যই দর্শক বা ভিউয়ারের কাছে পৌঁছাতে হবে। তারাই বিচার করবে কে হিট আর কে ফ্লপ। প্রত্যেক শিল্পীরই উদ্দেশ্য থাকে তার গানটি যেন কোটি কোটি ভিউ হয়। ভিউয়ের পাশাপাশি আরেকটি গুরুতপূর্ণ বিষয় হলো কমেন্ট। কমেন্ট থেকেই বোঝা যায় গানটির প্রতি শ্রোতাদের গ্রহণযোগ্যতা কেমন।
উপমা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ শিল্পী গানের অডিওর চেয়ে ভিডিওতে বেশি মনোযোগী। এই পরিস্থিতি খুবই দুঃখজনক। আগে গান প্রাধান্য পাবে তারপর ভিডিও। এ কারণে অনেক শিল্পী কিছুদিন কাজ করেই হারিয়ে যাচ্ছে। অডিও ইন্ডাস্ট্রি ভালো ও যোগ্য শিল্পী পাচ্ছে না। একশ্রেণির ব্যবসায়ী গানের অডিও নিয়ে ব্যস্ত। এদের কাছে অডিও ইন্ডাস্ট্রি জিম্মি হয়ে পড়েছে। এদের হাতে মানসম্মত ভিডিও নির্মিত হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ জরুরি।

গান নিয়ে উপমার জীবনের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। সেটি শিল্পীর প্রথম অ্যালবাম ‘ শুধু তোমার জন্য’র শুটিংয়ে। শুটিংয়ের জন্য তিনি কন্টাক লেন্স কিনেছিলেন। জীবনে প্রথম তিনি কন্টাক লেন্স পরে টানা ১২ ঘন্টা শুটিং করেন। এতে তার চোখে ইনফেকশন হয়ে চোখ ফুলে যায়। তখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি সে যাত্রায় বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান। এ ঘটনার পর থেকে জীবনে তিনি আর কোনো দিন কন্টাক লেন্স পরেননি।

উপমা সম্প্রতি বেলাল খানের সুরে একটি গানের অডিও কম্পোজিশন শেষ করেছেন। এছাড়া রবিউল ইসলাম জীবনের লেখায় একটি দেশের গানের কম্পোজিশনও শেষের পর্যায়ে।

উপমার সব গান মিউজিক ভিডিও হিসেবে তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রদর্শিত হচ্ছে। তিনি নাটকের গানেও কাজ করছেন নিয়মিত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মেয়ে উপমা ঢাকায় বড় হয়েছেন। পড়াশোনা করেছেন ইস্পাহানী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বর্তমানে উপমা ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। বাবা ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী। উপমার ইচ্ছা সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। গানের পাশাপাশি বই পড়তেও ভালোবাসেন এ গায়িকা। গান গেয়ে শ্রোতা-দর্শকদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকতে চান উপমা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ