ওসমানীনগরে শিক্ষকের বসতঘর উচ্ছেদ : ভূক্তভোগীদের ঠাঁই হলো জেল হাজতে!

সিলেটের ওসমানীনগরে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বসতভিটা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে বসতভিটা রক্ষার্থে পুলিশকে খবর দিয়ে আনা হলেও পুলিশ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অপরাধীদের পক্ষালম্বন করে ভূক্তভোগীকে তার স্বজনসহ থানায় এনে চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে আটকে রাখে। শুক্রবার রাতে উপজেলার তাজপুর ইউপির পূর্ব রুকনপুর গ্রামে এ ঘটনাটি হয়।

জানা যায়, পূর্ব রুকনপুর গ্রামের রাহাত উল্যার ছেলে মদিনাতুল উলুম বড় দিরারাই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্বাস আলী লেপাসের সাথে তার চাচাতো ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী মিজান এলাহির ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। প্রতিপক্ষের ভয়ে আব্বাস আলী দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে বাড়ি ছেড়ে তাজপুর বাজার এলাকায় বসবাস করছেন। গত শুক্রবার দুপুরে প্রতিপক্ষের ভাড়া করা লোকজন ওই শিক্ষকের তালাবদ্ধ বাড়ির বসত ঘর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে আব্বাস আলী স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে ছুটে তা বসত ঘর রক্ষার্থে থানা পুলিশকে খবর দেন। এ সময় এলাকার লোকজন ভাঙচুরকারী একজনকে আটকে রাখেন এবং ভাড়াটে কয়েকজনকে প্রতিপক্ষের কেয়ারটেকার নিরাপদে সরিয়ে নেন।

বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভাঙচুরকারী ২জনকে আটক করে। এ সময় মামলা দায়েরের কথা বলে শিক্ষক মাওলানা আব্বাস আলী লেপাস, সাক্ষি হিসেবে তার ভগ্নিপতি সোনাপুর গ্রামের আব্দুল খালিক, তার ভাগিনা কাশিপাড়া গ্রামের মুহিবুর রহমান এবং ভাড়েরা গ্রামের সালিশান মোফাজ্জলকে থানায় খবর দেয়। পুলিশ পথিমধ্যে ভাঙচুরকারী ভাড়াটে ১জন (আলী হোসেন) কে এবং থানায় আসার পর অপরজনকে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে ২৫লাখ টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগে মাওলানা আব্বাস আলী লেপাসসহ থানায় আসা তার স্বজনদের আটকে রাখা হয়। ওই সুযোগে শুক্রবার রাতের মধ্যেই ওই শিক্ষকের জায়গার বসতঘর সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করে ঘরের আসবাবসহ মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে প্রবাসী মিজান এলাহীর বাড়ির কেয়ারটেকার তাজউদ্দিন মাস্টার বাদি হয়ে দায়েরকৃত চাঁদাবাজী মামলার এজাহারে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবিসহ ঘর থেকে নগদ ৩৮ হাজার টাকা এবং ৪ভরি স্বর্ণালংকার নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সাংবাদিকরা জানতে চাইলে ঘর থেকে কিছু নেয়া হয়নি বলে জানান। এছাড়া মামলার এজাহারে ৬জন আসামীর নাম উল্লেখ থাকলেও তিনজনের নাম ছাড়া কাউকে চিনেন না বলেও জানান তিনি।

শিক্ষক আব্বাস মিয়ার স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, আমাদের ঘর ভাঙচুর করার সময় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে কৌশলে আমার স্বামীসহ অন্যদের থানায় নিয়ে চাাঁদাবাজির মামলায় আটকে রাখে। কিন্তু অপরাধী ২জনকে নিলেও পথিমধ্যে তাদের ছেড়ে দেয়। এ ব্যাপারে আমরা আজ (শনিবার বিকেলে) ডিআইজি ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে এসেছি। এর আগেও মিথ্যা মামলায় মহিলাসহ তাদের হয়রানি করা হয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য এহসানুল হক বলেন, শুক্রবার আমি এলাকার বাইরে ছিলাম। এসে ঘর-দুয়ার ভাঙচুর এবং এরসাথে জড়িত দুজন আটকের পর থানায় নিয়ে ছেড়ে দিয়ে ভুক্তভোগীকে আটকের কথা শুনেছি।

ওসমানীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, পুলিশের সহায়তায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক। এ বিষয়ে থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করলেও পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করে।

ওসমানীনগর থানার ওসি এসএম আল মামুন পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদাবাজীর অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করি। তবে ঘর ভাঙচুরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জায়গাটি কার আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগও দেয়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৯ জুন ওসমানীনগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষক আব্বাস আলী তার পরিবারের লোকজনের নিরাপত্তার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি তার বাড়ি দখলে প্রবাসী মিজান এলাহী কর্তৃক মিথ্যে মামলায় জড়িয়ে তার পরিবারকে নাজেহাল করার ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ