৭১-এ ‘স্যার আসবেন’, ১৯-এ ‘বড় ভাই ডাকছে’

শুক্রবার সকাল। তখনও আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেননি। বুয়েটের শহীদ মিনারের পাদদেশ ও আশপাশে আবরার হত্যার প্রতিবাদ, হত্যাকারীদের শাস্তি ও তাকে হারানোর আর্তনাদের চিত্র ফুটে উঠছিল বিভিন্ন দেয়াল লিখন, ব্যানারে।

এসবের মধ্যে একটি ব্যানারে চোখ আটকে গেল। কালো ব্যানারে লাল ও সাদা রঙে লেখা–

১৯৭১ :

-ঠক্! ঠক্! ঠক্!

-কে?

-স্যার, একটু বাইরে আসবেন? কথা ছিল!

২০১৯ :

-ঠক্! ঠক্! ঠক্!

-কে?

-তোকে বড় ভাইরা ডাকছে, বাইর আয়!

আবরারকে হত্যার আগে তাকেও ‘বড় ভাইরা’ ডাকছে বলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

বুয়েটের শহীদ মিনারের পাদদেশে বসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থী। তারা হলেন- ভূগোল বিভাগের আব্দুল্লাহ ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শোয়েব। তারা আবরার হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নিতে এসেছিলেন।

ব্যানারটির বিষয়ে তারা বলেন, পাকিস্তান সরকার আর্মি দিয়ে এই কাজ করেছিল। এখন ছাত্র সংগঠন দিয়ে এই কাজ করছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারগুলো।

তারা আরও বলেন, প্রত্যেকটা সরকারের একটা করে ছাত্র সংগঠন ছিল, এখনও আছে। এই ছাত্র সংগঠনগুলো সরকারের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করে।

ঢাবির এই দুই শিক্ষার্থী বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কোনো সরকার যখন দেশবিরোধী কিছু করে, তখন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা তা বুঝতে পারেন। স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের সব ধরনের আন্দোলনে এই শিক্ষার্থীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানের আমরা ভারতকে পানি, গ্যাস– সব দিচ্ছি, কিন্তু কিছু পাচ্ছি না। এই বিষয়টা আবরারের মতো অনেক শিক্ষার্থীই বুঝতে পারছেন। তারা কেউ কেউ সরব হচ্ছেন। এই সরব শিক্ষার্থীদের দমানোর জন্য সরকার ছাত্র সংগঠন বা লাঠিয়াল বাহিনীকে ব্যবহার করেছে, করছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সামরিক সরকার– সবাই এই কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে শিবির সন্দেহে আবরারকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৬ অক্টোবর রাতে পিটিয়ে হত্যা করেন।

ওই ঘটনায় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ গ্রেফতার ১৩ জনকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাংগঠনিক তদন্তের ভিত্তিতে আগের রাতেই বুয়েট ছাত্রলীগের ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার কথা জানায়।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে আজ পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
এ বিভাগের আরো সংবাদ